অনলাইন ডেস্ক অবশেষে স্বাভাবিক হয়েছে সুয়েজ খালের জাহাজ চলাচল। দীর্ঘ সাত দিন ধরে আটকে থাকার পর আজ সোমবার (২৯ মার্চ) মিশরের স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টায় উদ্ধারকারীদের তৎপরতায় সরানো হয় পণ্যবাহী জাহাজ এভার গিভেনকে। এরপরই ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক করার কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
মাত্র একদিনেরও কম সময়ের ব্যবধানে সুয়েজ খালে সৃষ্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে খাল কর্তৃপক্ষের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওসামা রেবেই। এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
এর আগে দিনের শুরুতে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পুর্ণিমার কারণে সৃষ্ট জোয়ারের সময় বাড়তি স্রোতের ব্যবহার করে আটকে থাকা জাহাজটি ভাসানো সম্ভব হয়েছে।
মানুষের তৈরি ব্যস্ততম সুয়েজ খাল আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্ত করেছে। ১৫০ বছরেরও বেশি পুরনো সুয়েজ খাল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট। এটিকে বিশ্ববাণিজ্যের ধমনিও বলা হয়। মালবাহী জাহাজ ‘এভার গিভেন’ আটকে যাওয়ায় গতকাল পর্যন্ত ৩০০-র বেশি জাহাজ আটকে পড়েছে। গত ২৩ মার্চ এই ঘটনা ঘটে।
পানামায় নিবন্ধনকৃত ‘এভার গিভেন’ জাহাজটি চীন থেকে নেদারল্যান্ডে পণ্য পরিবহন করছিল। তাইওয়ানের কোম্পানি এভারগ্রিন মেরিন জাহাজটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। এর দৈর্ঘ্য পাঁচটি ফুটবল মাঠের সমান যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মালবাহী জাহাজের একটি। ২ লাখ টনের এই জাহাজে একসঙ্গে ২০ হাজার কনটেইনার পরিবহন করা যায়। জাহাজটি ৪০০ মিটার লম্বা এবং ৫৯ মিটার চওড়া। আটকে পড়া জাহাজের মধ্যে মালবাহী ও তেলবাহী জাহাজ রয়েছে। এসব মালবাহী জাহাজে যেসব পণ্য রয়েছে তার মধ্যে আছে কাপড়, আসবাবপত্র, উৎপাদনের উপকরণ ও গাড়ির যন্ত্রাংশ।