শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, দুপুর ১:২২
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড.মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর! বরিশালের এআরএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন ও বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস কে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ শোকাহত আব্দুস সালামের পরিবারের পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা মুলাদীতে এনসিপির ৩৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

মাদ্রাসাছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ডেস্করিপোর্ট  বরগুনায় মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে গাইডবই দেওয়ার কথা বলে বসতঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগে এক শিক্ষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার দুপুরে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।

এদিকে এ মামলায় অপর আসামি রাশিদা বেগমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো— বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের সাহেবের হাওলা গ্রামের মাওলানা ইব্রাহীম খলিলের ছেলে মাওলানা সাইফুল ইসলাম। তিনি গুদিঘাটা দাখিল মাদ্রাসার শরীর চর্চার শিক্ষক।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি মাওলানা সাইফুল ইসলাম অষ্টম শ্রেণির নাবালিকা ছাত্রীকে গাইডবই দেওয়ার কথা বলে তার খালি বাড়িতে ডেকে নেয়। বেলা সাড়ে ১১টায় আসামির বসতঘরের দোতলায় ছাত্রীকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে ছাত্রীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ভিকটিমের বড় বোন ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় না দেখে খুঁজতে থাকে। এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বড় বোন জানতে পারে ভিকটিম সাইফুলের সঙ্গে তার বাড়িতে গেছে।

বড় বোন সাইফুলের বাড়িতে গিয়ে দেখে তার ছোট বোন রক্তাক্ত অবস্থায় কাঁদছে। এই ফাঁকে সাইফুল পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ভিকটিমকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় একই দিন (২০ জানুয়ারি) সাহেবের হাওলা হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য বাবুল গাজী বাদী হয়ে বরগুনা থানায় মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তার বাবা মাওলানা ইব্রাহীম খলিল ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফারুক ফকির তদন্ত শেষে আসামি সাইফুলের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৯ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রায় ঘোষণার পর বাদীর বাবা বলেন, আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আর যেন কোনো শিক্ষক এ রকম অপরাধ না করে।

আসামি কোর্ট বারান্দায় বলেন, আমি নির্দোষ। উচ্চ আদালতে আপিল করব। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, মামলা প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে।