অনলাইন ডেস্ক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নিজের এলাকায় আবার ভাঙন ধরেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজেপির ৬ কাউন্সিলর ফের তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগের এরা সবাই শুভেন্দুর সঙ্গে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।
একের পর এক কাউন্সিলর এবং কর্মী বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। ফলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর পক্ষে কাঁথি পৌরসভা ধরে রাখা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খ
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ১৬ জন কাউন্সিলর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন ফের তৃণমূলে যোগ দেন। এই কাউন্সিলররা প্রত্যেকেই শুভেন্দুর দীর্ঘদিনের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত। তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন পটাশপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা কাঁথি পৌরসভা পরিচালনা কমিটির সদস্য উত্তম বারিক।
তিনি আরও জানান, এখন দু’জন যোগ দিলেন। তাঁরা হলেন অতনু গিরি এবং তরুণ বেরা। বাকি তিন জন কাজের কারণে আসতে পারেননি।
তৃণমূল বিধায়ক উত্তম বলেন, “কাঁথি পৌরসভার যে সব কাউন্সিলর নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তারা ফের তৃণমূলে যোগদানের জন্য আবেদন করেছিলেন। দলের নির্দেশে পাঁচ কাউন্সিলরকে যোগদান করালাম। তৃণমূলের উন্নয়নে শামিল হতে আবার যোগ দিলেন তাঁরা। কাঁথি পুরসভার জয় শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।”
সদ্য যোগদানকারী সাবেক তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর অতনু গিরি বলেন, “২০২১ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু ওখানে গিয়ে দেখলাম দলে কাজ করার মতো কোনও পরিস্থিতি নেই। ওই দল করলে মানুষের পাশে থাকা যাবে না। বিজেপি শুধুমাত্র ধর্ম ধর্ম করে চলছে। হিন্দু-মুসলিম মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। ওই দলে মানসিকভাবে যেতে পারিনি। শরীরটা গিয়েছিল কিন্তু মন পড়ে ছিল দিদির কাছেই।”
অধিকারী পরিবারের উদ্দেশে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, আগামী পুরনির্বাচনে বিজেপিকে কাঁথি শহর থেকে উৎখাত করে দেব। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে থাকার কারণে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। শুভেন্দু অধিকারী আমাদের এতদিন ব্যবহার করেছেন। কোনও কাজ করার সুযোগ দেননি। শুভেন্দুর প্রতি আবেগ পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি আমরা।
এদিকে কাঁথি সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সৌমেন্দু অধিকারী বলেন, ওদের জন্য শুভেচ্ছা রইল। অতনুবাবু নাকি উৎখাত করবেন বলেছেন। আমরা উৎখাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। গণতান্ত্রিকভাবে, সুষ্ঠু ভাবে আমরা কাঁথি পৌরসভার ভোট করাব। পৌরসভা দখল করবে বিজেপি। দীর্ঘদিন ধরে কাঁথি পুরসভার উন্নয়ন থমকে রয়েছে।
বিজেপি নেতা সৌমেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘নেতারা গেলেও কর্মীরা আমাদের পাশে রয়েছেন।’