অনলাইন ডেস্ক ইরানের ওপর নতুন অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল দেশটি জানায়, ইরানের আট কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সেক্টরের ওপর এই অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরাকের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তেহরানের ক্ষেপনাস্ত্র হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিলো। গতকাল মার্কিন অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোয়াইট হাউজে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অবরোধের কথা জানান। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খবর রয়টার্স ও আল-জাজিরা’র।
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ঐ আদেশের অনুলিপি হোয়াইট হাউজ গতকাল প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ইরানের বিভিন্ন শিল্প নতুন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে। এর মধ্যে আছে নির্মাণ শিল্পসহ বস্ত্র, খনি, ইস্পাত ও লোহা শিল্প। বিশ্বে ইরানের সন্ত্রাসী কর্মকা্ল বন্ধ করাই এ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য।
আর গত মঙ্গলবার ক্ষেপনাস্ত্র হামলাসহ মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। অবরোধ আরোপের শিকার ইরানের সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী শামখানি, আর্মড ফোর্সেস’র ডেপুটি চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ রেজা আশতিয়ানি ও সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে পরিচিত ভলান্টিয়ার ফোর্স বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিসহ আটজন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, ইরানি শাসকদের কোটি কোটি ডলার আমরা কেটে নেবো। তিনি ইরানে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তদন্তে সহায়তাকারীকে যুক্তরাষ্ট্র সুুযোগ-সুবিধা দেবে বলে ঘোষণা দেন। ইরানের ‘অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বলয়’ এ শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞার টার্গেট বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ইরাকে মার্কিন ড্রোন থেকে করা ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় শীর্ষ ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে। সোলেইমানি হত্যার বদলা নিতে ইরান গত মঙ্গলবার ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।