মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ১০:৩০
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বরিশালে ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন স্বৈরাচার অর্থ সরবরাহ করছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী ভাটারায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি থেকে মাদক-নারীসহ আটক ৮৪ নিউনেস ল্যাবরেটরি স্কুলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু বিএম কলেজের বাস ও হোস্টেল সংকট সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন স্পিকার লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে গুরুতর সংকট মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫৩ অনিয়ম দুর্নীতিতে জর্জরিত বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলঃ দুদকে অভিযোগ বরিশাল ইইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরূদ্ধে নিজেই ঠিকাদারী করার অভিযোগ বিএম কলেজে আপত্তিকর অবস্থায় বহিরাগত তরুণ তরুণী আটক

নানা সংকটে জর্জরিত ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর,ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম) কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বিভিন্ন সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। বছরের পর বছর শূণ্য হয়ে আছে ডাক্তারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ। কখনো কখনো দু’ চারজন ডাক্তার যোগদান করলেও আবাসনসহ অন্যান্য সুবিধা না থাকায় দ্রুত তারা বদলী নিয়ে চলে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটি শূণ্য আছে। ১০ জন এমবিবিএস ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৭ জন। গাইনীসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩ টি পদ শূণ্য আছে। নেই কোন দন্ত চিকিৎসক। ৫ টি কনসালট্যান্ট পদের সবগুলোই ফাঁকা পড়ে আছে দীর্ঘদিন। ৬ টি টেকনোলজিষ্ট পদের মধ্যে শূণ্য আছে ৩ টি। নার্সের পদও ফাঁকা ৩ টি। উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ শূণ্য ৩টি। ২৭ জন অফিস স্টাফ থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন। ২৫ টি স্বাস্থ্য সহকারী পদের মধ্যে শূণ্য আছে ১০ টি। বিভিন্ন পদের জনবল সংকটের কারণে পরিপূর্ণ সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও জানা যায়, এখানকার এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন। দুটি এম্বুলেন্সের মধ্যে একটি বিকল। কিছুদিন আগে এখানে সিজার করা হলেও গাইনী ডাক্তার না থাকায় সে সেবাটিও বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে ডাক্তারদের জন্য নেই নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা। অতি পুরাতন একটি ডক্টর্স কোয়ার্টার থাকরেও সেটি এখন ভগ্নপ্রায়। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। অনেক স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ে ছাদের রড বের হয়েছে। ওয়ালগুলোতে ফাটল ধরেছে। ওয়ালে ধরেছে শ্যাওলা, জন্মেছে বট গাছ। যেকোন সময় ভবনটি ধ্বসে পড়ে ঘটতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা। এ কারণে ঝুঁকি নিয়ে কোন ডাক্তার এখানে থাকেন না। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় হাসপাতাল ক্যাম্পাসের চতুর্দিকে পানি জমে যায়। তাই বর্ষা মৌসুমে রোগীদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ রাজু মিয়া জানান, আমাদের সদিচ্ছা থাকলেও ডাক্তারসহ অনেক স্টাফের পদ শূণ্য থাকায় আমরা পরিপূর্ণ সেবা মানুষকে দিতে পারছি না। পদগুলোতে নিয়োগ দিলে এবং বিকল যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহার উপযোগী করা হলে সেবার মান সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবো। এছাড়া ডক্টর্স কোয়ার্টারটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ডাক্তারদের বাইরে থাকতে হচ্ছে। কোয়ার্টারটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবণ নির্মাণ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।