আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি: স্থানীয় আ’লীগের দু’গ্রপের সংঘর্ষের জেরে ঝালকাঠি জেবিআই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সাময়িক স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৮ জুন মঙ্গলবার ঝালকাঠি সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা (নং-২১৮/২০১৯ইং) দায়ের করা হয়েছে।
নির্বাচনে অভিভাবক সদস্য প্রার্থী মোঃ শাহিন খলিফা বাদী হয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আদেশ চেয়ে দায়েরকৃত মামলায় বিবাদী রিটার্নীং অফিসার সদর ইউএনও ও প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ ৭ কর্মকর্তাকে আদালত শোকজ করেছে।
আদালত নির্বাচন ‘সাময়িক স্থগিত আদেশ কেনো বাতিল’ ও ‘ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কেনো নির্দেশ দেয়া হবেনা’ ৭ দিনের মধ্যে তার কারন দর্শানোর জন্য বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও সহিংসতায় ঘটনার কারনে গত ১৬ জুন উর্ধতন কর্তপক্ষের নির্দেশে এক পত্রে ১৮জুন নির্ধারিত নির্বাচন সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে বলে প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম হারুন অর রশিদ জানিয়েছে।
মামলার বিবরনে জানাগেছে, পশ্চিম ঝালকাঠি সদর ইউএনও ও নির্বচনের রিটার্নীং অফিসার তানিয়া ফেরদৌস ও প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম হারুন অর রশিদ ১৮ জুন জেবিআই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (ইছানীল) ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করেন। সে অনুযায়ী অত্র মামলার বাদী ও নির্বাচনে অভিভাবক সদস্য প্রার্থী মোঃ শাহিন খলিফাসহ অন্যান্য প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল, পোষ্টার-লিফলেট ছাপানোসহ নানারকম প্রচারপ্রচারনায় লিপ্ত হন।
কিন্তু স্থানীয় একটি ষড়যন্ত্রকারী মহলের প্ররোচনায় নির্বাচনের মাত্র দু’দিন পূর্বে সম্পূর্নবেআইনী ভাবে প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম হারুন অর রশিদ ১৮জুন নির্ধারিত নির্বাচন সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন।
এতে বাদী সহ অন্যান্য প্রার্থীরা সামাজিক ও আর্থিক ভাবে অপূরনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় ফৌজদারী কার্য বিধির ৩৯ অর্ডারের ১/২ বুলের বিধান মতে ঘোষিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দেশ চেয়ে ঝালকাঠি সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে এ মোকদ্দমা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসার একেএম হারুন অর রশিদ জানান, ১৮ জুন জেবিআই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (ইছানীল) ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়াসহ মামলা-মোকদ্দমার সূত্রপাত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে গত ১৬ জুন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নির্বাচন সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি আদালত নির্বাচনের নির্দেশ দেয় তাহলে অবশ্যই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
স্থানীয় নিরপেক্ষ কয়েকজন অধিবাসী জানায়, জেবিআই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (ইছানীল) ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর স্থানীয় সরকার দলীয় পরাষ্পর বিরোধী দুটি গ্রপ মুখোমুখী অবস্থান নেয়। উক্ত দুটি প্যানেলের মধ্যে স্থানীয় কাউন্সিলর ওয়ার্ড আ’লীগ সাধারন সম্পাদক হুমায়ূন কবির সমর্থিত প্যানেলের নেতাকর্মীদের সাথে জেলা যুবলীগ নেতা কামল শরীফ-আ’লীগ নেতা আফজাল হোসেন সমর্থিত প্যানেলের নেতাকর্মীদের ১৪ ও ১৫ জুন দফায় দফায় সংঘর্ষ ও সহিংস ঘটনা ঘটে।
এতে উভয় গ্রপের কমপক্ষে ১০জন আহত হয় যার মধ্যে গুরুত্বর আহত ৬জন বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল ও ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এঘটনায় পশ্চিম ঝালকাঠি এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আ’লীগ সাধারন সম্পাদক হুমায়ূন কবির খান, তার ছোট ভাই ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহআলম ফরসু খান সহ ৯জনকে আসামী করে ঝালকাঠি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।