বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, সকাল ১০:৩৩
শিরোনাম :
মা ইলিশ রক্ষা করতে গিয়ে হামলায় আহত পুলিশ পোলট্রি ও ডেইরি শিল্পের সুরক্ষায় সরকার নীতিমালা তৈরি করছে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অল্প সুদে ঋণ দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা রায়হানুল গ্রেফতার ভোলায় এক ঘণ্টার জন্য পুলিশ সুপার হলেন স্কুলছাত্রী রিমি বরিশালে গণনাট্য সংস্থার একযুগ পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে ইলিশ শিকারের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই জেলের কারাদন্ড হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তভার ডিবিতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউসকে করোনার হট জোন করেছেন ট্রাম্প ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করুন: ডিসি জাকির হোসেন মজুমদার

দুই সন্তান এলেই এন্ড্রু কিশোরের শেষকৃত্য

বিনোদন ডেস্ক  বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের ধ্রুবতারা এন্ড্রু কিশোর মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রাম করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। সোমবার রাজশাহীতে মারা যাওয়ার পর তার লাশ এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। দুই সন্তান অস্ট্রেলিয়া থেকে বাবাকে শেষ দেখার জন্য দেশে ফিরছেন। তারা দেশে এলেই এন্ড্রু কিশোরের শেষকৃত্য হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর মহিষবাথান এলাকায় বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় এ শিল্পী।

এন্ড্রু কিশোরের মেয়ে সঙ্গা (২৬) ও ছেলে সপ্তক (২৪) অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন। সঙ্গার পড়াশোনা প্রায় শেষের দিকে। তার স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু একজন চিকিৎসক। তিনি রাজশাহীতেই বসবাস করেন।

এন্ড্রু কিশোরের বন্ধু ড. দ্বীপকেন্দ্র নাথ দাস জানান, দুই সন্তান অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরলে তাদের বাবার মরদেহ সমাহিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত মরদেহ হিমঘরেই থাকবে। শিল্পীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মায়ের পাশেই তাকে সমাহিত করা হবে।

এন্ড্রু কিশোরের জন্ম ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে; সেখানেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর।

ছোটবেলা থেকেই সংগীতে অনুরক্ত ছিলেন তিনি। সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনায় পড়লেও গানই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

একসময় গানের নেশায় এন্ড্রু কিশোর ছুটে আসেন রাজধানী ঢাকায়। চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে; মেইল ট্রেন-এ আলম খানের সুরে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। এর পর বাদল রহমানের এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীতেও কণ্ঠ দেন তিনি।

১৯৭৯ সালে প্রতিজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গান গাওয়ার পর আর পেছনে ফিরতে হয়নি তাকে।

তার গাওয়া ভালোবেসে গেলাম শুধু, সবাই তো ভালোবাসা চায়, আমার বুকের মধ্যিখানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, আমি চিরকাল প্রেমেরও কাঙাল, বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে- এমন অনেক গান এখনও মানুষের মুখে ফেরে। গান গেয়ে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতেন তিনি।

‘৯০-এর দশকের শেষ দিক পর্যন্ত চলচ্চিত্রের গানে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তার। ওই সময়েও তার গাওয়া ‘পড়ে না চোখের পলক’ গানটি ছিল তুমুল জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে প্লেব্যাকে শীর্ষে থাকা অবস্থায় বলিউডের প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের ডাকেও এন্ড্রু কিশোর ভারতে যাননি বলে জানিয়েছেন তার বন্ধু আরেক কণ্ঠশিল্পী লীনু বিল্লাহ।

বেশ কিছু দিন অসুস্থ থাকার পর এন্ড্রু কিশোরের ক্যান্সার ধরা পড়ে। গত বছর সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসার জন্য।

চিকিৎসা শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ১১ জুন তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও ১০ জুন এক পরীক্ষায় তার শরীরে আবারও লিম্ফোমার অস্তিত্ব মেলে।

সিঙ্গাপুরে ৯ মাস ধরে চিকিৎসা নিয়ে গত ১১ জুন দেশে ফিরে পর দিন রাজশাহী নগরীর মহিষবাথান এলাকায় বোন শিখা বিশ্বাসের ক্লিনিকে ভগ্নিপতি ও চিকিৎসক প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন এন্ড্রু কিশোর। এখানেই সোমবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।