রবিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং, ভোর ৫:৩১
শিরোনাম :
সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ স্নাতক পর্যন্ত নারীশিক্ষা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী সরকারি টাকায় গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর বন্ধ বিটিএমএ’র কমিটি গঠন :সভাপতি হুমায়ুন,সম্পাদক শাহিন, অর্থ সম্পাদক: মামুন বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মামুন-অর-রশিদ : সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক নিবেদিত যাত্রা স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উত্ত্যক্ত করায় ৪ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আটক বরিশালের নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিআইডব্লিউটিএ এখনো সক্রিয়

খানাখন্দে ভরপুর নড়াইল-ফুলতলা সড়ক

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:নড়াইল-ফুলতলা গোবরা সড়কটি ৭কিলোমিটার। অন্তত পক্ষে ১২ বছর প‚র্ব থেকে পুরোটা সংস্কার করা হয়। সেই সময় সংস্কারের ২বছর পরই সড়কের পিচ-খোয়া উঠতে থাকে। এরপর ক্রমন্বয়ে তৈরি হয় ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। এসব খানাখন্দ মেরামত করতে পিচঢালাই ওই পাকা সড়কের ওপর জায়গায় জায়গায় উঁচু করে বসানো হয় ইটের সোলিং।

এখন এ সড়কটি কাতচিত সড়কে পরিনত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই ইটের সোলিংও এখন নড়বড়ে, ভাঙা চোরা। বাকি পিচের অংশ খানাখন্দে ভরপুর। উলে­খ্য, নড়াইল পৌরসভার ধোপাখোলা মোড় থেকে নড়াইল সদর গোবরা বাজার পর্যন্ত এ সড়কের অবস্থান। এ সড়কটি নড়াইল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন। নড়াইল-খুলনাসহ এ অঞ্চলে যতায়াতের গুরুত্বপ‚র্ণ এ সড়কে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ।

স্থানীয় লোকজন ও সওজ বিভাগ জানায়, নড়াইল-ফুলতলা-খুলনা, নড়াইল-নওয়াপাড়া-খুলনা, নড়াইল-ভাটপাড়া-খুলনা ও নড়াইল-রঘুনাথপুর-কালিয়ায় যাতায়াত করতে এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। এ সড়ক ব্যবহার করলে দেশের গুরুত্বপ‚র্ণ বাণিজ্যিক শহর যশোরের নওয়াপাড়ার সঙ্গে নড়াইল যাতায়াতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার কমে। নড়াইল-খুলনা যাতায়াতে এ সড়ক দিয়ে ফুলতলা হয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার কমে।

স্থানীয়রা জানান, নড়াইল-নওয়াপাড়া ও নড়াইল-ফুলতলা সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলে। প্রতিদিন অন্তত ভাড়ায়চালিত দেড় হাজার মোটরসাইকেল চলে। এছাড়া কার্ভাড ভ্যান, ট্রাক, পিকআপ, টেম্পু ও ইজিবাইকসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এই সড়কের আশপাশে গোবরা মিত্র মহাবিদ্যালয়, গোবরা মহিলা কলেজ, গোবরা পার্ব্বতী বিদ্যাপীট, প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বীর গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুশুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই সাত কিলোমিটারের পুরোটাই ভাঙাচোরা। জায়গায় জায়গায় পাকার ওপর উঁচু করে করা হয়েছে ইটসোলিং। সে ইটের সোলিং অংশ নড়বড়ে, কোথায় ধসে গেছে। উঠে গেছে সেই ইট। অন্য অংশের পিচ-খোয়া উঠে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। গাড়ি গেলে ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায়। গাড়ি চলে ঝুঁকি নিয়ে। গর্তে প্রায়ই আটকে যায় যানবাহন। ঘটছে দুর্ঘটনা। বৃষ্টি-বর্ষায় নাকাল অবস্থা দাঁড়ায়। দুর্ভোগের শুরু ধোপাখোলা মোড় থেকেই। সেখানে পিচ-খোয়া উঠে হয়েছে অসংখ্য গর্ত।

এ অবস্থা পৌর এলাকার ব্রা²ণডাঙ্গা হয়ে উজিরপুর পর্যন্ত। এরপর কাড়ার বিল এলাকায় কিছুটা ভালো। এরপরই পড়েছে নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়ন অংশ। এ অংশের বীরগ্রাম, কলোড়া ও গোবরা গ্রাম অংশে পিচের ওপর মাঝে মাঝে ইটের সোলিং। সেখানে চলাচল অনুপোযোগী প্রায়। কলোড়া ও গোবরা গ্রাম অংশে যেখানে পিচঢালাই, সেখানে ছোট-বড় খানাখন্দ ও ধুলাময়।

ধোপাখোলা মোড়ের বাসিন্দা প্রবীণ ব্যক্তি অমরেশ বিশ্বাস জানালেন, অন্তত ১২ বছর আগে সড়কের পুরোটা সংস্কার করা হয়েছিল। এর দুই বছর পর থেকেই ভাঙাচোরা। আর গত তিন বছর আগে ইটের সোলিং দিয়ে দোতলা সড়ক তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘জীবনে দেখিনি পিচঢালাই সড়কের ওপর ইটের সোলিং দেয়।’ বাসচালক আব্বাস বললেন, ‘ইটসোলিং অংশে এমনিতেই খানাখন্দের জায়গার মতো গাড়ি ঝাঁকুনি খায়, তারপর আবার ইট নড়বড়ে হয়ে ধসে গেছে। আবার উঁচু ইটসোলিং অংশে গাড়ি উঠতেও ঝাঁকি, নামতেও ঝাঁকি। সাত কিলোমিটার অংশ বাসে যেতে ১০ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে লাগছে প্রায় এক ঘণ্টা।’ গোবরা এলাকার সচেতন নাগরিক ইব্রাহিম বললেন, ‘কাচ বা ও সিরামিকের সামগ্রী পরিবহণ করাই যায় না। অন্য মালামাল পরিবহনে সময় লাগে, ভাড়াও লাগে বেশি। খাদে পড়ে গাড়িও ভাঙে।’

গোবরা পার্ব্বতী বিদ্যাপীটের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুর রশিদ জানান, ‘হাইওয়ের মতো প্রচুর গাড়ি চলে এ সড়কে। নড়াইল, যশোর ও খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াতে খুবই গুরুত্বপ‚র্ণ সড়কটি।

নড়াইল সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ওমর আলী বলেন, ‘গুরুত্বপ‚র্ণ ওই সড়কটির মেরামতের বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন আছে। দ্রæতই কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।