রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা ৭:০০
শিরোনাম :
আগৈলঝাড়া থানায় হামলাঃ দুই সাংবাদিককে আসামী করায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উদ্বেগ সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ স্নাতক পর্যন্ত নারীশিক্ষা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী সরকারি টাকায় গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর বন্ধ বিটিএমএ’র কমিটি গঠন :সভাপতি হুমায়ুন,সম্পাদক শাহিন, অর্থ সম্পাদক: মামুন বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মামুন-অর-রশিদ : সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক নিবেদিত যাত্রা স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উত্ত্যক্ত করায় ৪ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আটক বরিশালের নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্

বরিশালে ঈদের আনন্দ নেই ওদের!

শামীম আহমেদ  আর মাত্র ৫ দিন বাকি কোরবানী ঈদের। সবাই মার্কেটে ভীড় করছে ছেলে মেয়েদের নতুন পোষাক কিনে ঈদে পড়ার জন্য। এতিম শিশু নাঈম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,আমার মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। আমি এতিম। তাই কেউ আমার মত এতিমকে একটি নতুন পোষাকও কিনে দেন না। পুরাণো কাপড়ই আমাদের নতুন পোষাক। ডাল-ভাত এটাই আমাদের ঈদের খাবার। অভিন্ন কন্ঠে কথা গুলো বলেন বরিশাল নগরের পলাশপুর ৫ নং ওয়াড ৭ নং আর্দশ গুচ্ছগ্রাম মধ্য কালভার্ট সংলগ্ন রহমানিয়া কেরাতুল কোরআন হাফিজি মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিংটি শতাধিক এতিম শিশু। মাদ্রাসাটি পরিচালনার জন্য কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় ছাত্রদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে মাদ্রাসার পরিচালক নুরুল ইসলাম ফিরোজী।

অন্য দিকে এতিম শিশুরা বলেন, আমাদের কাহারও মা নেই। আবার কাহারও বাবা নেই। তাই আমরা ঈদ কোরবানীতে নতুন পোষাকের মূখ দেখতে পাচ্ছিনা। আমাদের নতুন পোষাক দেওয়ার মত কেউ নেই। ধনী ব্যাক্তিরা মাদ্রাসায় মাঝে মধ্যে খাবার, চাল-ডাল দিলেও ঈদ-কোরবানীতে নতুন পোশাক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,প্রায় শতাধিক এতিম গরীব রয়েছে এই মাদ্রাসায়। কিন্তু তারা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থের সহযোগীতা না পাওয়ার কারনে কোরবানীতে পোষাক ও খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতিম ছাত্ররা আরো জানায়, আমরা গরীব ঘরের সন্তান দেখে আমাদের স্থান হয়েছে এতিম খানায়। আর যারা ধনী বংশে জম্ম নিয়েছে তারা চলে গাড়িতে। খাচ্ছে তিন বেলা পোলাও- মাংস-বিরানী। আমাদের এতিম খানায় এতিমের খোঁজ রাখেনা কেউ। ঈদ যায়, কোরবানী যায় কিন্তু আমাদের গায়ে থাকে পুরান জামা। যার বাবা মা আছে তারা একটা না একটা নতুন পোষাক পরে। আমাদের বাবা ও মা না থাকার কারনে আমাদের গায়ে উঠেনা নতুন পোষাক। মাদ্রাসায় কেউ যদি মাছ ও মাংস অথবা টাকা পায়সা দান করে তাহলে আমাদের মতো এতিমদের কপালে ভালো কিছু জুটে।

মাদ্রাসায় গিয়ে জানা গেছে, কয়েক জন এতিম শিশুর জীবন কাহিনীর গল্প। দেখা গেছে কি ভাবে তারা জীবন কাটাচ্ছে মাদ্রাসায়। এতিম শিশু সাব্বির,নাঈম,রুম্মান জানায়, আমার বাবা মা কেউই এই পৃথিবীতে বেঁচে নেই। শুধু রয়েছে নানী। তাই আমার ঠিকানা হয়েছে এতিম খানায়। মা-বাবা বেঁচে থাকলে নতুন পোষাক ও ভালো খাবার দিতেন আমাদের।নেই বলে তিন বেলার যখন যে খাবার পাই তাই খাই। মাদ্রাসার পরিচালক নুরুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, আগে মাদ্রাসার নিজস্ব জায়গা ছিলো না। ছাত্রদের থাকতে হতো ভাড়া বাড়িতে। সাংবাদিক ভাইরা বিভিন্ন পত্রিকায় মাদ্রাসার সমস্যা গুলো তুলে ধরায় চোখে পড়ে দক্ষিঞ্চনালের রাজনৈতিক অভিভাবক মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সাহেবের। পরে তিনি জেলা পরিষদের মাধ্যমে জমি কিনে ভবন করে দেন এতিম শিশুদের থাকার জন্য।

এছাড়াও বর্তমান জেলা প্রশাসক এস,এম অজিয়র রহমান স্যার আমাদের মাদ্রাসায় সরেজমিনে এসে ছাত্রদের দুর্দশা দেখে ২ টন চাল ও নগদ ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। জেলা প্রশাসক স্যার প্রায়ই মাদ্রাসার এতিম ছাত্রদের খোঁজ খবর নেয়। আল্লাহতালা তাদের বাঁচিয়ে রাখুক আমাদের মত এতিমদের জন্য। তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজ চলছে। দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের জন্য জরুরি ভাবে প্রয়োজন রড,সিমেন্ট,ইট,বালু। অর্থের অভাবে কাজ শেষ করতে পারছিনা। দ্বীন দরদী ভাই বোনদের খেদমতে এই যে মাদ্রাসায় চাল,কাপড় ,অর্থ, যাকাত, ফিৎরা,মান্নত, কোরবানীর চামড়া দান করলে ছাত্রদের নিয়ে মাদ্রাসাটি চালাতে বেশি একটা সমস্যা হত না। কিন্তু কোন ব্যাক্তি এই এতিম শিশু গুলোর দিকে একটু নজর অথবা অর্থের সহযোগীতা করছেনা।

তবে বিশ^ জুড়ে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে নানা সমস্যায় রয়েছে মাদ্রাসাটি। আগে কিছু ব্যাক্তি মাঝে মাঝে চাল ডাল বিতরন করতেন। কিন্তু করোনার কারনে তারাই রয়েছে সমস্যায় মধ্যে। তাই বর্তমানে মাদ্রাসাটির এতিম শিশুরা রয়েছে কষ্ঠে। কয়েক মাস ধরে মাদ্রাসাটিতে কোন ধরনের অর্থ সহযোগী আসছেনা। এবার কোরবানীতে এতিমদের নিয়ে কি খাওয়াবে তা নিয়ে সারাদিন চিন্তা করছে মাদ্রাসার পরিচালক। তিনি আরো জানায়,দানশীল ব্যক্তিরা এই মাদ্রাসার এতিম গরীব ছাত্রদের মুখে দিকে তাকিয়ে একটু দান করেন।

কোরবানীতে এতিম ছাত্রদের খাবার ,কাপড়, অর্থ অথবা কোরবানীর পশুর চামড়া দিয়ে সকলের সহযোগীতা একান্ত ভাবে কাম্য। সহযোগীতা করার জন্য যোগাযোগ করুন মাদ্রাসার বিকাশ নাম্বার ০১৯২৪৬১২৯১৮ অথবা মাদ্রাসার ব্যাংক একান্ট নাম্বারে পাঠাতে পারেন আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক বরিশাল শাখা এ্যাকাউন্ট ০১০১১২০১২৬৪৫৪। বরিশাল শাখা এ্যাকাউন্ট ০১০১১২০১২৬৪৫৪।