রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২০ ইং, বিকাল ৫:১২

উচ্চ আদালতের নির্দেশে মহিলা কোটায় এমপিওভুক্তির জটিলতা কাটলো

ডেক্সরিপোর্ট  উচ্চ আদালতের নির্দেশে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ভৌত বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও ইংরেজি এবং মহিলা কোটায় সহকারী শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জটিলতা নিরসন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ রোববার (২৬ জুলাই) এসব ক্যাটাগরির সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ জটিলতা নিরসন করে পৃথক আদেশে বলেছে, তাদের এমপিওভুক্তি আবেদনের দিন থেকে কার্যকর হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হলো।

পৃথক তিন আদেশে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এর ১১.৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা পূর্বের কোনো বকেয়া সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের একাডেমিক সনদ, নিবন্ধন সার্টিফিকেট ও এনটিআরসিএর সুপারিশ যথাযথ থাকলে এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো-২০১৮ এর শূন্যপদে কর্মরত থাকলে তাদের এমপিওভুক্তি অনলাইনে আবেদনের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

সহকারী শিক্ষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি)

আদেশে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের ২০১৬ ও ২০১৭ সালের দুটি রিট পিটিশন এবং আপিল বিভাগের দুটি আপিলের আদেশের আলোকে ৬ মাস মেয়াদি কম্পিউটার কোর্সের সনদধারী ও এনটিআরসিএর নিবন্ধনধারী সহকারী শিক্ষক পদে এনটিআরসিএর ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি এবং ২৮ মে সুপারিশপ্রাপ্তরা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো-২০১৮ এর শূন্যপদে এমপিওভুক্ত হবেন। সহকারী শিক্ষক পদে এনটিআরসিএ কর্তৃক প্রথম নিয়োগচক্রের (২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি এবং ২৮ মে) পরবর্তী নিয়োগগুলোর ক্ষেত্রে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ প্রযোজ্য হবে।

সহকারী শিক্ষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি/ভৌতবিজ্ঞান/ব্যবসায় শিক্ষা/ইংরেজি)

এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে, নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি), নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক (ভৌত বিজ্ঞান), মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক (ব্যবসায় শিক্ষা) এবং নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) পদগুলোর জনবল কাঠামোর শূন্যপদে যারা শিক্ষক নিবন্ধন পাশ করে দ্বিতীয় নিয়োগচক্রের বিভিন্ন ধাপে এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং পদায়নকৃত প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এর শূন্যপদে কর্মরত আছেন তারা বিধি ও যোগ্যতা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত হবেন।

মহিলা কোটার কারণে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন সংক্রান্ত

আদেশে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ত্রুটিপূর্ণ চাহিদার ভিত্তিতে নিবন্ধনকারী যে সমস্ত শিক্ষক এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো-২০১৮ এর শূন্যপদে যোগদান করে সংশ্লিষ্ট এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, তারা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে বহাল থাকবেন। বিধি ও যোগ্যতা মোতাবেক তারা এমপিওভুক্ত হবেন। মহিলা কোটার জটিলতা থেকে সৃষ্ট সমস্যার এ সমাধান শুধুমাত্র ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত এনটিআরসিএর মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত ও বিধি মোতাবেক যোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কোনো রেফারেন্স (দৃষ্টান্ত) হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

এতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ভবিষ্যতে মহিলা কোটার নির্দিষ্ট হার পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘শুধুমাত্র মহিলা প্রার্থীর জন্য প্রযোজ্য’ বলে আবশ্যিকভাবে উল্লেখ করে উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার/জেলা শিক্ষা অফিসার, উপপরিচালক (মাধ্যমিক) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এনটিআরসিএতে শিক্ষকদের চাহিদা পাঠাবেন। ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।