বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, রাত ২:১৩
শিরোনাম :
মা ইলিশ রক্ষা করতে গিয়ে হামলায় আহত পুলিশ পোলট্রি ও ডেইরি শিল্পের সুরক্ষায় সরকার নীতিমালা তৈরি করছে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অল্প সুদে ঋণ দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা রায়হানুল গ্রেফতার ভোলায় এক ঘণ্টার জন্য পুলিশ সুপার হলেন স্কুলছাত্রী রিমি বরিশালে গণনাট্য সংস্থার একযুগ পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে ইলিশ শিকারের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই জেলের কারাদন্ড হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তভার ডিবিতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউসকে করোনার হট জোন করেছেন ট্রাম্প ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করুন: ডিসি জাকির হোসেন মজুমদার

নারী নির্যাতনের উপযুক্ত বিচার চাইলেন প্রধান বিচারপতি

ডেক্সরিপোর্ট  প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, এখন সারা দেশেই নারীদের ওপর এত নির্যাতন হচ্ছে যে সরকার পর্যন্ত বিব্রত। সরকারের মন্ত্রী পর্যন্ত বলেছেন যে, আমরা ক্ষমতায়, আমরা এটার দায় এড়াতে পারি না। আমরা জুডিশিয়ারিতে আছি, আমরাও চাই এর উপযুক্ত বিচার হোক।

বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সদ্যপ্রয়াত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইন, বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্টারদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) এ শোকসভার আয়োজন করে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর সাংবাদিক ভাইয়েরা বিচার অঙ্গন থেকে লেখালেখিও একটু বেশি শুরু করেছেন। এটা ভালো। গঠনমূলক সমালোচনা করলে আমার জন্য অনেক সুবিধা হয়। আমি চিহ্নিত করতে পারি যে, কোথায় কি কি গোলমাল আছে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে ছাড়া হচ্ছে সেটাও যেভাবে বলবেন, যেখানে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হচ্ছে- সেটাও যদি জনগণের সামনে আসে তাহলে তখন জনগণের একটা স্বস্তি হবে যে- শুধু ছাড়ছে না, তার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীদের ফাঁসিও হচ্ছে। ছাড়ার রিপোর্টও করতে হবে, একইভাবে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রিপোর্টও করতে হবে। তা না হলে কোর্ট সম্পর্কে জনগণের একটা বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে। আর সুপ্রিম কোর্ট হল মানুষের আশ্রয়ের শেষ স্থল। এমনভাবে রিপোর্ট করতে হবে যে কোর্টও যে কাজ করে তার যেন প্রমাণ হয়।

প্রধান বিচারপতি প্রয়াত মাহবুবে আলমের স্মৃতিচারণ করে বলেন, মানুষের জীবন যে এত ভঙ্গুর, কীভাবে যে উনি (মাহবুবে আলম) চলে গেলেন, উনার যাওয়াটা আমি এখনও কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারি না। উনার সবচেয়ে বড় কথা ছিল, বিচার অঙ্গনে যত অনিয়ম আছে- এগুলো দূর করতে হবে। উনি আমাকে বলেছেন, আপনি (প্রধান বিচারপতি) সেন্ট্রাল ফাইলিং করেন। এটা করলে কোর্টের ৫০ পারসেন্ট অনিয়ম দূর হয়ে যাবে। আমি বারবার বারের কর্মকর্তা যারা আছেন তাদের বলেছি, আপনারা যদি সেন্ট্রাল ফাইলিংয়ে আসেন তাহলে বারের যে অনিয়ম আছে তার ৫০ পারসেন্ট চলে যাবে। কিন্তু বার থেকে বলা হয়, সেন্ট্রাল ফাইলিং হবে না। আমরা আমাদের চয়েস অনুসারে কোর্ট নির্বাচন করব। সেভাবে আমরা কাজ করব।

বারের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, মাহবুবে আলমের ইচ্ছা ছিল সেন্ট্রাল ফাইলিং। আমরা আশা করব, উনার এ ইচ্ছাটা আপনারা (বার কর্মকর্তা) বাস্তবায়ন করবেন অচিরেই। আর আমিও ব্যক্তিগতভাবে চাই সেন্ট্রাল ফাইলিং হলে সুপ্রিম কোর্টের অনিয়ম ৫০ পারসেন্ট থাকবে না। সমস্যার মূলে হাত না দিলে যত অনিয়মের কথাই বলি তা কোর্ট থেকে দূর হবে না। আগে মূলে আঘাত করতে হবে। আর মূলে আঘাত করলেই অনিয়ম দূর হবে। তার আগে দূর হবে না।

এছাড়া ১৯৮২ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মাহবুবে আলমের সঙ্গে তার জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন প্রধান বিচারপতি। প্রয়াত মাহবুবে আলমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিমান প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, মাহবুবে আলমের ছেলে সুমন মাহবুব প্রমুখ।

বক্তারা মাহবুবে আলমের কর্মউজ্জ্বল জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তার বেহেস্ত নসিবের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের একাধিক বিচারপতি, মাহবুবে আলমের মেয়ে শিশির কনাসহ সিনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।