ডেস্ক রিপোর্ট ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সূর্যেখালী গ্রামের হাকিম মোল্লার স্ত্রী রেহেনা বেগম (৫৮) জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। এটা করোনা সংক্রমণের উপসর্গ। ফলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া দরকার।তাই মোটরসাইকেল ও নিজের পিঠের সঙ্গে বাঁধলেন অক্সিজেন সিলিন্ডার। এরপর মাকে বসালেন। সিলিন্ডার থেকে মায়ের মুখে অক্সিজেন নেওয়ার ব্যবস্থা করলেন।
এরপর মোটরসাইকেল চালিয়ে শনিবার বিকেলে বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এলেন। রেহেনা বেগমকে হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
আর এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে মহাসড়কে থাকা চেকপোস্ট থেকে সেই ব্যক্তির মোটরসাইকেলটিকে দ্রুত ও অবাধে যেতে দিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ গেট সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
সেখানে চেকপোস্টে উপস্থিত থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা জানান, ওই ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের পেছনে এক নারীকে নিয়ে বরিশালের দিকে যাচ্ছিলেন। লকডাউনে বের হওয়ার কারণ জানতে চেকপোস্টে যথা নিয়মে তাদের থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। তবে কাছাকাছি এলে দেখা যায় মোটরসাইকেলচালক তার শরীরের সঙ্গে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার গামছা দিয়ে বেঁধে নিয়েছেন। আর পেছনে তাকে ধরে যে নারী বসে আসেন তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক। সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে ওই নারী যথারীতি অক্সিজেন গ্রহণ করছেন এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট তৌহিদ টুটুল বলেন, এ অবস্থা দেখে ওই মোটরসাইকেলচালককে কিছু আর বলার ছিল না। তাই তাকে দ্রুত যেতে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান জানান, বর্তমানে রেহেনা বেগমের অবস্থা ভালো।
বৃদ্ধার ছেলে জিয়াউল হাসান টিটু বলেন, রেহেনা জ্বর ও শ্বাসকষ্টে কষ্ট পাচ্ছিল। লকডাউনে যানবাহনও চলছে না। আর জরুরিভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সও না পাওয়া এই উপায় বের করেন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, রেহেনা বেগমকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে হাইফ্লোর মেশিনের সাহায্য নেওয়া হবে