শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, দুপুর ২:৫৯
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড.মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর! বরিশালের এআরএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন ও বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস কে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ শোকাহত আব্দুস সালামের পরিবারের পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা মুলাদীতে এনসিপির ৩৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

টিকা নেওয়া কোভিড রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি কম

ডেস্করিপোর্ট  মহামারি করোনা ভাইরাসের টিকা নেওয়া কোভিড রোগীদের জটিলতা ও মৃত্যু ঝুঁকি কম বলে এক গবেষণায় জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

গতকাল রোববার রাতে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। গত মে ও জুন মাসে এ গবেষণা পরিচালনা করে আইইডিসিআর।

আইইডিসিআরের গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের দুই ডোজ টিকা যারা নিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের সমস্যা, হাসপাতালে ভর্তির হার এবং মৃত্যুঝুঁকি টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় কম দেখা গেছে।

এজন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি অবশ্যই দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন আইইডিসিআরের গবেষকরা।

আইইডিসিআর জানায়, দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের জাতীয় তালিকা থেকে গবেষণার জন্য ১ হাজার ৩৩৪ জনের নমুনা বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ৫৯২ জন কোনো টিকা নেননি। বাকি ৭৪২ জন অন্তত এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। অর্থাৎ, সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৫৫ শতাংশ টিকা নিয়েও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

আর ৩০৬ জন ছিলেন, যারা পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়ার অন্তত ১৪ দিন পর করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের রোগ শনাক্তের কমপক্ষে ১৪ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

টিকা গ্রহণকারীদের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতির পাশাপাশি তাদের রোগের গতিবিধি পর্যালোচনা করা হয়েছে এই গবেষণায়।

আইইডিসিআর বলছে, টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় ভুগেছেন ১১ শতাংশ। আর দুই ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে এই হার ছিল ৪ শতাংশ।

অক্রান্তদের মধ্যে যারা আগে থেকে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে (ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতা) ভুগছিলেন, তাদের বিষয়টি আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করেছে আইইডিসিআর।

এ ধরনের রোগীদের মধ্যে যারা টিকা নেননি, তাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের জটিলতায় ভোগার হার দেখা গেছে পূর্ণ টিকা গ্রহণকারীদের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ৭ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। আর যারা টিকা নেননি, তাদের ২৩ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

আর যে কোভিড রোগীরা আগে থেকেই বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে ভুগছিলেন, তাদের মধ্যে টিকা পাওয়া ব্যক্তিদের ১০ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। অথচ টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে এই হার ৩২ শতাংশ।

একাধিক অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত টিকা নেওয়া রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হার দুই ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের চেয়ে ১৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ছিল।

আইইডিসিআর বলছে, টিকা গ্রহণকারীরা আক্রান্ত হলেও তাদের আইসিইউতে কম নিতে হয়েছে এবং মৃত্যুও কম হয়েছে বলে এ গবেষণায় উঠে এসেছে।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কোভিড রোগীদের মধ্যে টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের ১৯ জনকে আইসিইউতে নিতে হয়েছে, যা ৩ শতাংশ। আর দুই ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে ৩ জনকে আইসিইউতে যেতে হয়েছে, যা ১ শতাংশের কম।

করোনাভাইরাসের টিকা নেননি এমন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ শতাংশ বা ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে । অন্যদিকে টিকা নিয়েছেন এমন ১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।