সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং, সকাল ৬:২২
শিরোনাম :
বরিশালের নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিআইডব্লিউটিএ এখনো সক্রিয় বরিশালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহ জাতীয় দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট হিসেবে যোগ দিলেন আহমেদ বায়েজিদ মঠবাড়িয়ায় চোরের হামলায় অটো চালক জখম বরিশাল পেশাজীবী ফোরামের দিনব্যাপী কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিযান, অফিস ছেড়ে পালালেন কাজী আরাগচি-গালিবাফকে হত্যার ছক ইসরায়েলের, ইরানকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ুগত কারণে জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার শঙ্কা বরিশালে শুরু হচ্ছে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ, কোর্স সম্পন্ন হলেই নিয়োগ

আফগানিস্তানে বিস্ফোরণেও কমেনি দেশ ছাড়ার হিড়িক

অনলাইন ডেস্ক  আফগানিস্তানে বোমা আতঙ্ক ভুলে হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশুকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে বিমানবন্দরের প্রবেশ দরজায়। একই চিত্র চোখে পড়েছে শনিবারও। ভিড় সামলাতে প্রবেশ পথের আগে থেকেই টহল বাড়িয়েছে তালেবান যোদ্ধারা। প্রবেশমুখে মোতায়েন করা হয়েছে তালেবানের স্পেশাল ফোর্স। বদরি-৩১৩ বাহিনী।

আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজের এক সাংবাদিকের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কাবুল বিমানবন্দরের পাঁচিলের বাইরে কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় করেছেন। পানি মধ্যেও দাঁড়িয়ে রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তাদের মধ্যে কতজন শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে পারবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

১৫ আগস্ট তালেবানরা কাবুল দখল করে নেওয়ার পর থেকেই হামিদ কারজাই বিমানবন্দরের বাইরে এই ছবি দেখছে বিশ্ব। দেশ ছাড়তে চাওয়া আফগানদের ভয় দেখাতে বিমানবন্দরের বাইরে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে তালেবানরা। পদপিষ্ট হয়েও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তার পরেও বিমানবন্দরে ভিড় কমেনি। শেষ পর্যন্ত ভয়ংকর বিস্ফোরণও তুচ্ছ হয়ে গেল তালেবান ভীতির কাছে।

আবার বিস্ফোরণের আশঙ্কা সত্ত্বেও প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে হাজির হচ্ছেন আফগানরা। আশা একটাই, কোনোভাবে বিমান ধরে তালেবান শাসিত মাতৃভূমি ছেড়ে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে পাড়ি দেওয়া।

পঞ্জশিরে নাক গলাবে না তালেবান : তাজিক দুর্গখ্যাত আফগানিস্তানের অপরাজেয় পঞ্জশির উপত্যকায় নাক গলাবে না তালেবান। পঞ্জশিরের হাতেই থাকবে এর নিয়ন্ত্রণ। পঞ্জশির দখলে শত শত যোদ্ধা পাঠিয়েও শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হয় তালেবান। এরপরই আফগানিস্তানের জাতীয় বীর, পঞ্জশিরের বাঘখ্যাত সাবেক মুজাহিদ কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তালেবান।

মাসুদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য কাবুল থেকে তালেবানের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় পারওয়ান প্রদেশের রাজধানী চারিকারে ছুটে গিয়েছিল। সাবেক আফগান সংসদ-সদস্য আব্দুল হাফিজ মানসুরের বরাত দিয়ে এ খবর জানায় আফগানিস্তানের বার্তা সংস্থা আওয়া। এর অর্থ হচ্ছে আপাতত পঞ্জশির আহমেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে। আফগানিস্তানে এই প্রথম আহমেদ মাসুদের সঙ্গে কোনো তালেবান প্রতিনিধিদলের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

১৯৯৭ সালে তালেবানের হামলায় সাবেক মুজাহিদ কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদ নিহত হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকের আগে তালেবান হুমকি দিয়েছিল, আহমেদ মাসুদের সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতা অর্জিত না হলে বলপ্রয়োগ করে পঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা হবে। কিন্তু মাসুদ প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, তিনি ওই উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে ছেড়ে দেবেন না। তিনি বলেছেন, আলোচনায় সমঝোতা না হলে লড়াই

করার জন্য তার যোদ্ধারা প্রস্তুত রয়েছে। আফগানিস্তানে পঞ্জশির হচ্ছে একমাত্র অঞ্চল, যেটির ওপর এখনো তালেবান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

তালেবান সরকারকে শিগগিরই স্বীকৃতি দেবে না যুক্তরাষ্ট্র : তালেবান সরকারকে দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র নাকচ করে বলেছে, আগামী সপ্তাহে সৈন্য প্রত্যাহার শেষ হওয়ার পর আফগানিস্তানে তাদের কূটনৈতিক উপস্থিতি থাকবে কি না, সে বিষয়ে তারা এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। হোয়াইট হাউজের নারী মুখপাত্র জেন পাসাকি সাংবাদিকদের বলেছেন, আমি স্পষ্ট করতে চাই যুক্তরাষ্ট্র কিংবা আন্তর্জাতিক অংশীদার যাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি তাদের কারও এ ধরনের স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো তাড়া নেই।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, আফগান ভূমিকে সন্ত্রাসের ঘাঁটি না বানালে এবং মানবাধিকার বিশেষ করে নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখালে ভবিষ্যৎ তালেবান সরকারকে তারা স্বীকৃতি দেবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নিড প্রাইস বলেছেন, তালেবান যুক্তরাষ্ট্রকে বাদবাকি আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহারের পর কাবুলে মার্কিন কূটনীতিক উপস্থিতি বজায় রাখতে বলেছে। তিনি বলেন, তালেবান নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু এসব আসলে কথার কথা। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওয়াশিংটনের আরও আশ্বাসের প্রয়োজন হবে।

তালেবানের হাতে মার্কিন বাহিনীর বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি : যুক্তরাষ্ট্রের ফেলে যাওয়া বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির দখল নিয়েছে তালেবান। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে সাহায্য করা আফগানদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ জন্য আল ঈসা নামের নতুন একটি গোষ্ঠী কাজ করবে।

নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে জানা যায়, আল ঈসা ইউনিটের অন্যতম ব্রিগেড কমান্ডার নিয়াজউদ্দিন হাক্কানি এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানিয়েছেন। নিয়াজউদ্দিন হাক্কানির বরাত দিয়ে ওই খবরে বলা হয়েছে, এর মধ্যেই মার্কিন বহনযোগ্য বায়োমেট্রিক স্ক্যানার তারা ব্যবহার করা শুরু করেছে। এসব স্ক্যানারের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর সৃষ্ট ডেটাবেস থেকে সহজেই মার্কিন বা ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন আফগানদের চিহ্নিত করা যাবে।

হাক্কানি আরও বলেছেন, কোনো আফগান মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিগত সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হবে।