শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, সকাল ৮:৫২
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড.মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর! বরিশালের এআরএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন ও বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস কে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ শোকাহত আব্দুস সালামের পরিবারের পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা মুলাদীতে এনসিপির ৩৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

মাঝ সমুদ্রে দুর্ঘটনায় পড়ে সন্তানদের বাঁচিয়ে চলে গেলেন মা!

অনলাইন ডেস্ক  পরিবার নিয়ে জনমানবহীন দ্বীপে রোমাঞ্চকর ভ্রমণে গিয়েছিলেন মেরিলি চেকন নামের ভেনেজুয়েলার এক নারী। কিন্তু মাঝ সমুদ্রে দুর্ঘটনায় পড়ে তাদের ইয়াট।

ভাঙা ইয়াটের অংশে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে টানা চারদিন বেঁচে থাকার জন্য প্রাণপণ লড়াই করেন ওই নারী। শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষা করতে না পারলেও সন্তানদের বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভেনেজুয়েলা থেকে ক্যারিবীয় দ্বীপ লা তোর্তুগাতে বেড়াতে গিয়েছিলেন মেরিলি। তার ছেলে-মেয়েসহ মেরিলিরা সংখ্যায় নয়জন ছিলেন। তারা থর দ্য হিগুরেতে নামের একটি ইয়াট ভাড়া করে সেখানে গিয়েছিলেন।

৫ সেপ্টেম্বরই ফিরে আসার কথা ছিল তাদের। কিন্তু ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা বেজে গেলেও ফেরেননি মেরিলিরা। তখন সন্দেহ হওয়ায় ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল মেরিটাইম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই সংস্থা। তাদের জানানো হয় গন্তব্যস্থলে ইয়াট পৌঁছায়নি, রওনাস্থলে ফিরেও আসেনি।

৬ সেপ্টেম্বর মেরিলিদের যাত্রাপথে খোঁজ শুরু করে ভেনেজুয়েলার মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধানকারী দলটি দেখে লা অর্চিলা দ্বীপের কাছে ইয়াটের ভাঙা অংশ। ৭ সেপ্টেম্বর সকালে ওই দ্বীপ থেকে কিছুটা দূরে তারা দেখতে পান ইয়াটের একটা ভাঙা অংশ ভাসছে সমুদ্রে। তাতে দুই সন্তানসহ মেরিলিকে দেখতে পান তারা। তবে মেরিলিদের উদ্ধার করা গেলেও বাকি সদস্যরা এখনো নিখোঁজ।

মেরিলির মারা গেলেও তার দুই সন্তান বেঁচে আছেন। মৃত্যুর আগে দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে ইয়াটের ভাঙা অংশেই বাঁচার লড়াই চালিয়েছিলেন মেরিলি চেকন।

মাঝ সমুদ্রে সূর্যের তাপে ডিহাইড্রেশন হওয়ার ভয় পেয়েছিলেন মেরিলিন। পানীয় জল ছিল না, খাবার ছিল না। উপায় না দেখে নিজের প্রস্রাব পান করেছিলেন যাতে শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে না যায়। আর ছেলে-মেয়েকে ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচাতে নিজের স্তন্যপান করিয়েছেন। তিন দিন সমুদ্রে এভাবেই কাটিয়েছেন। কিন্তু চতুর্থ দিন আর পারেননি।

উদ্ধারকারীরা আসার আগেই ডিহাইড্রেশনেই মারা যান মেরিলি। কিন্তু সন্তানদের বাঁচিয়ে গিয়েছেন তিনি। মায়ের নিথর দেহ আঁকড়ে দুই শিশুকে ভাসতে দেখেছিলেন উদ্ধারকারীরা। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।