ডেস্করিপোর্ট কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নয়ন কুমার সরকার (১৯) নামে এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার সকালে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সোন্দাহ নতুনপাড়া রাস্তার পাশ থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নয়ন নন্দলালপুর গ্রামের দিনমজুর যুগেষ কুমার সরকারের ছেলে এবং আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
এলাকাবাসী জানান, শনিবার রাত থেকে নয়ন নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সারা রাত খুঁজে তার সন্ধান পাননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল।
ভোররাতে খবর পেয়ে নন্দনালপুর ইউনিয়নের সোন্দাহ নতুনপাড়া মাঠে নয়নকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবার। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা যুগেশ কুমার সরকার বলেন, শনিবার মধ্যরাত থেকে নয়ন নিখোঁজ ছিল। মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও সন্ধান পাননি। পরে রোববার ভোরে মাঠের মধ্যে তাকে পড়ে থাকার খবর পেয়ে ছুটে যান। ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে বলেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথেই মারা যায় সে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় এক মুসলিম মেয়ের সঙ্গে নয়নের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে ছেলেকে শাসন করেছিলেন তিনি। হয়তো ওই মেয়ের পরিবারের সদস্যরা তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তিনি ছেলের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আশরাফুল আলম বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় ভোর ৬টার দিকে নয়নকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ভর্তির কিছুক্ষণ পরই তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।
কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে অপরাধীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।