সোমবার, ৩রা অক্টোবর, ২০২২ ইং, দুপুর ২:০৯

ফেসবুকে হাহা রিয়েক্ট নিয়ে শেকৃবিতে মারামারি!

ডেস্করিপোর্ট  শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলে ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল ভিত্তিক দুই গ্রুপের মধ্যে ফেসবুকে হাহা রিয়েক্ট দেওয়ার সূত্রপাত ধরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে এ মারামারির সূত্রপাত ঘটে। এতে ঢাকা অঞ্চলের ৩ জন ও কুমিল্লা অঞ্চলের ১ জন আহত হন। আহতদের সবাই সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতরা হলেন- ঢাকা অঞ্চলের মোহাম্মদ রাকিব, ওয়ালিদ সাইফুদ্দিন, ইফতি এবং কুমিল্লা অঞ্চলের রোফি ওসমানী। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, ১০ সেপ্টেম্বর ভর্তি পরীক্ষার সময়ে পরীক্ষার বিষয় নিয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের অনুসারী ফেসবুকে পোস্ট দিলে ঢাকার অনুসারী হাহা রিয়েকশন দেয়। পরবর্তীতে কুমিল্লা অঞ্চলের অনুসারীরাও হাহা দিতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে পরে তর্কাতর্কিতে রূপ নেই। প্রথমে ঢাকা অঞ্চলের অনুসারীরা কুমিল্লা এলাকার গণরুমের অংশে গিয়ে হাহা প্রদানকারীকে টেনে ছিড়ে ফেলার হুমকি দেয়। এরই রেশ ধরে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কুমিল্লা এলাকার অনুসারী ও ঢাকা এলাকার অংশ তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।

মারামারিতে আহত ঢাকা এলাকার ইফতি বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কুমিল্লা এলাকার আমাদের ব্যাচের ৪০ থেকে ৫০ জন এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়। এ সময় আমরা রুমে ৪-৫ জন ছিলাম। একত্রে বসার জন্য আরও বড় ভাইদের ডাকতে ফোন বের করতেছিলাম। এর মধ্যেই আমাদের মারা শুরু করেছে। এর মধ্যে ২১ ব্যাচের ছিল সাজিদুল ইসলাম মজুমদার, হাসান জিসান, আফিকুল ইসলাম রাকিব, রফিউস সানি, সজীব ভুইয়া এবং ২০ ব্যাচের ছিল রায়হানুল্লাহ রাহী, অজয় পাল ও আব্দুল্লাহ নোমান। তারা ব্যাট, স্ট্যাম্প, কাঠ দিয়ে মেরে আমাদের একজনকে মুখ ও আরকজনের হাত ফাটিয়ে দিয়েছে।’

কুমিল্লা এলাকার মাইনুদ্দিন বলেন, ‘নতুন ব্যাচের জুনিয়রদের ভর্তি বিষয়ক পোস্ট দিয়েছিল আমাদের এলাকার সাজিদ এবং এনামুল। ঢাকা অঞ্চলের মুশফিক, এনামুল, হাসানাত এদের পোস্টে হাহা রিয়েক্ট দেওয়ায় এ নিয়ে বেশ তর্কাতর্কি হয় এবং ঢাকা অঞ্চলের প্রায় ২০ জনের মতো এসে আমাদের হুমকি দেয়। গতরাতে (মঙ্গলবার) বিষয়টি মীমাংসা করতে আমরা একসঙ্গে বসতে যায়। কিন্তু ওদের মাত্র ৩-৪ জন ছিল। ওদের বাকি লোকজনকে ডাকতে বললে ওরে বলে উঠে তোদের সঙ্গে আমরা এই কয়েকজনই যথেষ্ট। এই নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ঢাকা অঞ্চলের ইফতি কাঠ দিয়ে আমাদের রোফী ওসমানীর চোখের নিচ ফাটিয়ে দেয় এবং তিনটি সেলাই লাগে।’

একই রুমে থাকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমাদের গণরুমে ঢাকা এলাকার ২১ ব্যাচের অল্প কয়েকজন ছিল। কুমিল্লা এলাকার ২১ ব্যাচের বেশ কয়েকজন এসে তর্কাতর্কি শুরু করে দেয়। এর একপর্যায়ে মারামারিতে রূপ নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই রুমের বাইরে অবস্থানরত ২০ ব্যাচ রুমে ঢুকে দুই ব্যাচ মিলে ২১ ব্যাচকে মারতে থাকে।’

ইতোমধ্যে দুই গ্রুপ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার এসআই সাব্বির আলম বলেন, ‘মঙ্গলবার মধ্যরাতে গণরুমে মারামারির ঘটনায় দুপক্ষেরই লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ঘটনা, সেখানকার প্রক্টর ঘটনাটি জানেন। তিনিই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হারুন-উর-রশিদ বলেন, নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। এই বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবগত আছি। রাতে হলের সহকারী প্রভোস্ট ও সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। আমরা আজ (বুধবার) রাতে বসব যদি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রয়োজন হয় করব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। তবে দুই পক্ষের কেউই লিখিত কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে দেয়নি। থানায় তারা অভিযোগ দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমরা অবগত না।