মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর)ফুলবাড়ী প্রতিনিধি :কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ফাতেমা বেগম (৬০) নামের এক স্বামী পরিত্যক্তা নারী দীর্ঘ দিন যাবত মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
তিনি উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়াডের বড়লই গ্রামের বাসিন্দা মৃত বাবু মিয়ার মেয়ে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জরাজীর্ণ একটি একচালা ছোট্ট ঘরে ফাতেমা বেগমের বসবাস। সেখানেই দেখা মিললো বৃদ্ধপ্রায় ফাতেমার।ঘরের মাঝখানে বাঁধা একটি ছাগল, এক কোনে রান্নার চুলা,হাড়িপাতিল ও শোবার জন্য একটি চৌকি পাতানো।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফাতেমা বলেন, বাবা মোর কিছুই নাই,২৫ বছর আগে মোর বাচ্চা- কাচ্চা হয়না দেখিয়া মোর স্বামী মোক ছারি গেইছে।তখন থাকি মোর বাপের দেওয়া এই জাগা কোনাত ঘর তুলিয়া আছোং।মানুষের বাড়িৎ কামাই করিয়া কোন মতে খায়য়া না-খায়য়া দিন যায় মোর। ঘরটা দিন দিন ভাংগি যাবাইছে। কেমন করি যে থাকিম।ঝরি বাতাস হইলে মোর ঘর ওশসানি পানিতে ভিজি যায়।বিছনাত শুতপার পাংনা বাহে আদি নেওয়া অমাত ছাগলটাক নিয়ে এক কোনাত বসি থাকং।মোর কষ্ট কাইয়ো দেখে না বাহে।
তিনি আরো বলেন,এতদিন মোর শরীল ভাল আছলো মানুষের বাড়িৎ কাজ করিছোং,অ্যালা তো মোর শরীলে চলে না।কেমন করি ঘরটা ঠিক করিম বাবা।
এলাকাবাসীরা জানায় অনেক দিন থেকে এই মহিলা খুব কস্টে দিন পার করলেও অদৃশ্য কারনেই তিনি ভাতা ও সরকারি ঘর পাচ্ছেন না।তার চেয়ে হতদরিদ্র এ এলাকায় আর কেউ নেই।ফাতেমা বেগম ভাতা ও সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য।
৭নং ওয়াডের ইউ পি সদস্য জনাব খৈমুদ্দিন চৌধুরী ফাতেমা বেগমের মানবেতর জীবন যাপনের সত্যতা স্বীকার করেন এবং যত তারাতারি সম্ভব তার দুর্দশার দুর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে জানান।
ফাতেমা বেগমের জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী বর্তমান বয়স ৪৯ হলেও চেহারারদৃষ্টে বয়স ষাটোর্ধ বলে মনে হয়।