সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং, রাত ৯:২৪
শিরোনাম :
সুন্দরবনের দুবলার চরে শতকোটি টাকার শুঁটকির বাণিজ্য, নোনা জলে জেলেদের অনিশ্চিত জীবন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বরিশাল মহানগর জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল নিয়মিত ফ্লাইটে জাতিসংঘের পথে প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন তিন দিনে এসআরবির অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬৩, অস্ত্র-মাদক উদ্ধার অধ্যক্ষ মাওলানা শহিদুল ইসলামের জানাজায় মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের অংশগ্রহণ বিএনপি কর্মী ও স্বজনদের অসুস্থতায় খোঁজ নিতে হাসপাতালে শয্যাপাশে জিয়াউদ্দিন সিকদার রাজধানীর এমপি ভবনে মিলল গাজী নজরুলের সেই ‘স্ত্রীর’ লাশ মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসির সঙ্গে সিআইএ প্রধানের বৈঠক প্রভাবশালী নেতার ছত্রচ্ছায়ায় আগেও অপরাধ করে পার পেয়ে যায় তুহিন প্রলোভন উপেক্ষা করে আ’লীগ নেতা শিপনকে গ্রেপ্তার, গুরুত্বর অসুস্থতায় রাখা হয় নজরদারিতে-পুলিশের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার!

সুন্দরবনের দুবলার চরে শতকোটি টাকার শুঁটকির বাণিজ্য, নোনা জলে জেলেদের অনিশ্চিত জীবন

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির,সুন্দরবন থেকে ফিরে:

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলে চারদিকে অথৈ জলরাশি। তারই মাঝখানে জেগে থাকা দুবলার চর। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে এখানে শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। কেউ জাল-নৌকা নিয়ে উত্তাল সাগরে ছুটছেন, কেউ সদ্য ধরা মাছ নিয়ে ফিরছেন চরে। কেউ মাছ বাছাই করছেন, কেউ চাতালে ছড়িয়ে দিচ্ছেন শুকানোর জন্য। আবার কেউ বাঁশের মাচায় ঝুলিয়ে দিচ্ছেন লইট্টা, ছুরি, রূপচাঁদা, তেলফ্যাসাসহ নানা প্রজাতির মাছ।

সন্ধ্যা নামতেই সাগরের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে আসে শ্রমিকদের গান। স্বজনদের দূরে রেখে পেটের দায়ে পাঁচ মাসের জন্য এই নোনা জলের জনপদে এসে ঘর বাঁধেন তারা। সাগরের ঢেউ, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই চলে তাদের জীবন।

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা বাগেরহাটের দুবলারচর এখন শুঁটকি মৌসুমে সরগরম। প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত হাজারো জেলে, মহাজন ও শ্রমিকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। সাগর থেকে আহরিত বিপুল পরিমাণ মাছ এখানেই প্রক্রিয়াজাত করে শুঁটকি করা হয়। দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে যায় সেই শুঁটকি।

কিন্তু বিপুল এই অর্থনীতির আড়ালে রয়েছে ভিন্ন এক বাস্তবতা। জেলেদের অভিযোগ—দাদন, মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণ, অনুমতিপত্র ও বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তারের কারণে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কারও কারও অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে মাছ বা শুঁটকি বিক্রি করাও কঠিন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন আহমেদ।

শুঁটকির মৌসুমে জমজমাট চর

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুবলারচরসহ আশপাশের কয়েকটি চরে নির্দিষ্ট মৌসুমে মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতের অনুমতি দেওয়া হয়। আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া, শেলারচর ও মেহেরআলীর চরে মূলত শুঁটকি তৈরির কাজ চলে।

সাগর থেকে মাছ ধরে এনে প্রথমে প্রজাতি অনুযায়ী বাছাই করা হয়। এরপর কোনো মাছ চাতালে বিছিয়ে, আবার কোনো মাছ বাঁশের মাচায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই মাছ শুকিয়ে শুঁটকিতে পরিণত হয়।

জেলে মিরাজ শেখ বলেন, “তেলফ্যাসাসহ ছোট মাছ চাতালে শুকানো হয়। আর লইট্টা ও ছুরি মাছ বাঁশের আড়ায় ঝুলিয়ে শুকাতে দেওয়া হয়।”

দীর্ঘদিনের মহাজন ইসমাইল হোসেন বলেন, “এখান থেকে শুঁটকি বিভিন্ন পরিবহনে রংপুর, সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় যায়। দেশের শুঁটকির বড় একটি অংশ দুবলারচর থেকে সরবরাহ হয়।”

শতকোটি টাকার বাণিজ্য, সরকারি উদ্যোগ সীমিত

প্রতি মৌসুমে এখানে বিপুল অঙ্কের কাঁচা মাছ ও শুঁটকি কেনাবেচা হয়। বন বিভাগও এ খাত থেকে রাজস্ব পায়। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শুঁটকি আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শুঁটকি তৈরির জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক অস্থায়ী ঘর ও ডিপো নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রূপচাঁদা ও লাক্ষা মাছের শুঁটকি এবং অন্যান্য সাধারণ মাছের শুঁটকির জন্য পৃথক হারে রাজস্ব আদায় করা হয়।

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এত বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে শুঁটকি শিল্পের আধুনিকায়নে সরকারি অবকাঠামো ও পৃষ্ঠপোষকতা খুবই সীমিত। অস্থায়ী ঘর, চাতাল ও মাচা তৈরির অধিকাংশ কাজই করতে হয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের নিজেদের উদ্যোগে।

রামপালের শুঁটকি ব্যবসায়ী ইমরান ফরাজী বলেন, “এই খাত থেকে সরকার বিপুল রাজস্ব পেলেও সরকারি উদ্যোগ বা পৃষ্ঠপোষকতা খুব বেশি নেই। আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করি।”

দাদনের জালে আটকে থাকার অভিযোগ

জেলেদের একটি অংশের অভিযোগ, মৌসুম শুরুর আগেই অনেক ব্যবসায়ী ও মহাজনকে ঋণ বা দাদন নিতে হয়। সেই অর্থের ওপর নির্ধারিত সময় শেষে বাড়তি টাকা দিতে হয়। দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে মাছ আহরণ ব্যাহত হলে ঋণের বোঝা আরও বাড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে ও মহাজন অভিযোগ করেন, দাদনদাতা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের ওপর তাদের নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। ঋণ নেওয়ার পর মাছ বিক্রির ক্ষেত্রেও তাদের ওপর নির্ভর করতে হয়।

তাদের অভিযোগ, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র থেকে মাছ ধরি। কিন্তু অনেক সময় মাছের ন্যায্য দাম পাই না। দাদনের কারণে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছেই মাছ বিক্রি করতে হয়।”

তবে অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট নথি বা আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

‘কামাল উদ্দিনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ’—জেলেদের অভিযোগ

দুবলারচরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় জেলেদের একাংশের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে কামাল উদ্দিন আহমেদের নাম। তাদের দাবি, মাছ ধরার অনুমতি, মাছ বিক্রি, ব্যবসা ও চরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে কাঁচা মাছ বা শুঁটকি বিক্রি করা কঠিন। কেউ কেউ দাবি করেন, চরের বিভিন্ন ব্যবসা ও জেলেদের কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করা হয়।

তবে কামাল উদ্দিন আহমেদ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “জেলেদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও শুঁটকি ব্যবসায়ীদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছি। জেলেরা নিরাপদে মাছ আহরণ করতে পারেন। কোনো চাঁদা দিতে হয় না।”

অন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাদের সবার বক্তব্য এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতিকালে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অনুমতিপত্র নিয়েও প্রশ্ন

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নির্দিষ্ট ফি দিয়ে মৌসুমে মাছ ধরার অনুমতি নিতে হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ মৌসুমে ১৫ জনের নামে মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

দুবলারচর বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় বলেন, “ঘর নির্মাণসহ মাছ প্রক্রিয়াজাতের জন্য ১৫ জনের নামে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তাদের লোকজন নিয়ে তারাই সব নিয়ন্ত্রণ করে। তবে কোনো বিচ্যুতির বিষয়ে আমাদের কাছে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বক্তব্যের সঙ্গে জেলেদের উত্থাপিত অভিযোগের পার্থক্য থাকায় বিষয়টি আরও প্রশাসনিক তদন্ত ও নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি রাখে।

চিকিৎসা নেই, রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট

বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চললেও দুবলারচরে স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নেই। কোনো জেলে গুরুতর অসুস্থ হলে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে দূরের হাসপাতালে নিতে হয়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় এই যাত্রা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জেলেদের অভিযোগ, বিশুদ্ধ পানির সংকটও রয়েছে। মৌসুমের কয়েক মাস এখানে বসবাস করা হাজারো মানুষের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা যায়নি।

দুবলারচরে কয়েকটি সাইক্লোন শেল্টার থাকলেও সেগুলোর ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে।

মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়েও বিড়ম্বনা

দুবলারচর থেকে আহরিত শুঁটকির বড় একটি অংশ দেশের পাইকারি বাজারে যায়। ফলে জেলেদের জন্য বাজারদর জানা এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।

জেলেদের অভিযোগ, টেলিটক নেটওয়ার্ক অনেক সময় বন্ধ থাকায় তারা বাজারদর জানতে পারেন না। এতে কাঁচা মাছ ও শুঁটকি কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অভিযোগটি অস্বীকার করে কামাল উদ্দিন বলেন, “একটি টাওয়ারের জেনারেটরে তেল শেষ হয়ে গেলে নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। খুলনা থেকে তেল আসার পর আবার চালু হয়।”

সুন্দরবনের গাছ নয়, সঙ্গে নিতে হয় নির্মাণসামগ্রী

দুবলারচরে অস্থায়ী ঘর, মাছ শুকানোর চাতাল ও মাচা তৈরিতে সুন্দরবনের কোনো গাছপালা ব্যবহার না করার নির্দেশনা রয়েছে বন বিভাগের।

ফলে জেলেরা নিজ নিজ এলাকা থেকে বাঁশ, ছন ও প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী নিয়ে আসেন। কয়েক দিনের মধ্যেই গড়ে ওঠে অস্থায়ী বসতি। মৌসুম শেষে আবার সেগুলো গুটিয়ে ফিরে যান নিজ নিজ এলাকায়।

ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে লড়াই করেই জীবিকা নির্বাহ

দুবলারচরের জেলেদের জীবন প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই। উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। ঝড়ের পূর্বাভাস, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং সাগরের আচরণ—সবকিছুর ওপর নির্ভর করে তাদের আয়-রোজগার।

মৌসুম শেষে এই কয়েক মাসের উপার্জন নিয়েই সারা বছর সংসার চালানোর চেষ্টা করেন তারা। তাই মাছের দাম, ঋণের সুদ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নিরাপত্তা—সবকিছুই তাদের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

শুঁটকি শিল্পে সম্ভাবনা, প্রয়োজন টেকসই ব্যবস্থাপনা

দুবলারচর শুধু একটি শুঁটকিপল্লী নয়; এটি উপকূলীয় হাজারো মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। সাগরের মাছকে প্রক্রিয়াজাত করে শুঁটকিতে রূপান্তরের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে বড় একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

ব্যবসায়ীদের মতে, আধুনিক শুকানোর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণাগার, নিরাপদ পানি, চিকিৎসাকেন্দ্র, যোগাযোগ ও বাজারব্যবস্থা উন্নত করা গেলে এই শিল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে।

ইমরান ফরাজীর ভাষায়, “সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হলে এই চরের শুঁটকি রপ্তানি করে প্রতিবছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।”

দুবলারচরের নোনা বাতাসে তাই একসঙ্গে ভেসে আসে সম্ভাবনা ও সংকটের গল্প। একদিকে শতকোটি টাকার শুঁটকি বাণিজ্য, অন্যদিকে সাগরে জীবন বাজি রেখে মাছ ধরা জেলেদের অনিশ্চিত জীবন। প্রকৃত অর্থে এই শুঁটকি শিল্পের সুফল কার ঘরে কতটা পৌঁছাচ্ছে—তার উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন আরও স্বচ্ছ হিসাব, বাজারব্যবস্থার নজরদারি এবং জেলেদের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত।

সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে যে জেলেরা দেশের বাজারে শুঁটকি পৌঁছে দেন, তাদের নিরাপত্তা, ন্যায্য মূল্য ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হলেই দুবলারচরের শুঁটকি শিল্পের সম্ভাবনা টেকসই রূপ পেতে পারে।