বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ৯:৫৬
শিরোনাম :
বিএম কলেজের অশ্বিনীকুমার হলে মধ্যরাতে উত্তেজনা,সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হামলার চেষ্টা বরিশালে হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ সম্পন্ন বরিশালকে নিরাপদ,পরিচ্ছন্ন ও সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে-এনসিপির মেয়রপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ নলছিটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সচেতনতায় তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত তারুণ্যের নলছিটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বরিশালে সাগরদী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে ফের হয়রানী, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! ২৮ অক্টোবর ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায়: অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: আইসিটি মন্ত্রী

বিএম কলেজের অশ্বিনীকুমার হলে মধ্যরাতে উত্তেজনা,সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হামলার চেষ্টা

বিএম কলেজ প্রতিনিধি,বরিশাল ।। সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের মহাত্মা অশ্বিনীকুমার (ডিগ্রি) ছাত্রাবাসে মধ্যরাতে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও তাঁদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ। তাঁর দাবি, সেখানে শুধু বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, গুরুতর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, ছাত্রাবাসের সার্বিক পরিস্থিতি ও চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে হলের ডাইনিংয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। সভায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তাঁদের অনুসারীরা উপস্থিত হন। একপর্যায়ে সভায় বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হলের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সভাস্থল থেকে বেরিয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন অনুসারী হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী মোবারক হোসেনের বাসভবনে গিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার কন্ট্রোল রুমের চাবি জোরপূর্বক নিয়ে নেন। পরে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবাসিক শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যামেরা বন্ধ করে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনার পর হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাত পর্যন্ত ছাত্রাবাস এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। পরে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এবং বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হাসান তাসনিম ও সাধারণ সম্পাদক নাভিদ তুষার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

ডিগ্রি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আকবর মুবিন বলেন, ছাত্রাবাসের বিভিন্ন সংকট নিরসন, শিক্ষা সফর আয়োজন এবং বন্ধ থাকা সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বহিরাগতদের নিয়ে উপস্থিত হন। তাঁদের আসার বিষয়ে হলের শিক্ষার্থীরা আগে থেকে অবগত ছিলেন না। বহিরাগতদের ছাত্রাবাসে প্রবেশের বিষয়টি শিক্ষার্থীরা মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে হট্টগোলের একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়।

আকবর মুবিন আরও অভিযোগ করেন, কয়েকজন বহিরাগত হলের কর্মচারী মোবারক হোসেনকে তাঁর বাসায় গিয়ে জিম্মি করেন এবং হল অফিসের চাবি নিয়ে নেন। পরে অফিস খুলে সিসিটিভির মতো গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থার ক্ষতি করা হয়। এ ঘটনায় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, বন্ধ থাকা সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ছাত্রাবাসে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হোক।

অভিযোগের বিষয়ে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বলেন, রাতের ঘটনা অধ্যক্ষকে জানানোর পর তিনি পুলিশ প্রশাসনকে সেখানে পাঠান। কলেজ প্রশাসন, হল সুপার, পুলিশ প্রশাসন ও ছাত্রদলের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। সেখানে শুধু বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, এর বাইরে গুরুতর কিছু ঘটেনি। এরপর সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান।

ওয়ালিদ বলেন, পরবর্তীতে কে বা কারা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের বয়ান তৈরি করেছেন, তা নিয়ে তাঁরাও কৌতূহলী। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর দেখে তাঁরাও উদ্বিগ্ন হয়েছেন। ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ কারা করছেন এবং কীভাবে করছেন, তা নিয়েও তাঁদের প্রশ্ন রয়েছে। তাঁরা সব সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে চান। বিএম কলেজের আবাসিক হলের সড়ক নির্মাণকাজ কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজের মান যাচাই-বাছাই করতে পারে। যাচাই না করে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া উচিত নয়। আগামী রোববার কলেজের অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তারা নির্মাণকাজের মান পর্যালোচনা করবেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করা এবং বহিরাগতদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়ালিদ বলেন, ঘটনাস্থলে বহিরাগতরা উপস্থিত থাকলে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত। পুলিশ প্রশাসনের বরাত দিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদেও ঘটনাস্থলে কোনো বহিরাগতকে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ বা মারামারি হয়নি; একজন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের বাকবিতণ্ডা হয়েছিল।

ওয়ালিদ আরও বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বক্তব্য দেওয়া সম্ভব। তবে প্রতিটি সংবাদকে কেন্দ্র করে বারবার বিবৃতি দেওয়া সাংগঠনিকভাবে সম্ভব নয়। এর আগে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হলে তাঁরা বিবৃতি দিয়েছিলেন। বর্তমান ঘটনাটিকেও তাঁরা আগের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন। ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের পক্ষে আছেন। কোনো ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ বলেন, ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে তিনি পুলিশ পাঠান। এ সময় সহকারী সুপারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতপার্থক্য হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা সভা করছিলেন, সেখানে ছাত্রদল নেতারা যান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে বহিরাগত ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে কোনো বহিরাগতকে পায়নি। ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা নিয়ে মূলত মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা কাজটি দ্রুত শেষ করার দাবি জানান। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিএম কলেজের অশ্বিনীকুমার ছাত্রাবাসের সড়কে ঢালাই দেওয়ার শেষ মুহূর্তে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।