নিজস্ব প্রতিবেদক ।। ইংরেজি ভাষার প্রতি ভীতি দূর করতে বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত সাত দিনব্যাপী স্পোকেন ইংলিশ শর্ট কোর্সের দ্বিতীয় ব্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র ও বই বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৯টায় নগরীর কলেজ রোডে মাকসুদা-জহির ফাউন্ডেশন পরিচালিত জালীলুল কুরআন হাফেজী মাদ্রাসায় এ উপলক্ষে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বরিশাল জেলা সভাপতি ও দৈনিক বর্তমান’র ব্যুরো চিফ মো. মামুন-অর-রশিদ। সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক জহুরুল আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মো. মাজহারুল রেজওয়ান রেজা।
কোর্স সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “আমরা মাদ্রাসার ছাত্র। কিন্তু ইংরেজি ভাষা শেখা এত সহজ, তা এখানে না এলে জানতামই না। মাত্র সাত দিনের কোর্সে আমাদের ইংরেজিভীতি কেটে গেছে। এখন একটু অনুশীলন করলেই প্রাথমিক ইংরেজি বলতে ও বুঝতে পারব বলে আশা করছি।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক মো. মামুন-অর-রশিদ বলেন, বর্তমান যুগের চাহিদা পূরণে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাফেজ শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথচলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্পোকেন ইংলিশ শর্ট কোর্সের কোর্স কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ ইমাম। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন হাফেজ মাওলানা মো. রায়হান।
অনুষ্ঠানে মাকসুদা-জহির ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন (অর্থোপেডিক) ডা. মো. মাজহারুল রেজওয়ান রেজা ঘোষণা দেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে শিগগিরই আরও বেশ কয়েকটি সমসাময়িক বিষয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হবে।
তিনি বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই ফাউন্ডেশন কাজ করছে।