সৌম্য গঙ্গোপাধ্যায়,কলকাতা প্রতিনিধি মহাকাশে ফের বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি, কলকাতা সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেখা গেল এই মহাজাগতিক দৃশ্য। আজ সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে কলকাতার আকাশে শুরু হয় সূর্যগ্রহণ। গ্রহণের তুঙ্গ মুহূর্ত ছিল বেলা ১২টা ৩৫ মিনিটে। গ্রহণ শেষ হয় দুপুর ২টো ১৭ মিনিটে।
কিন্তু, আকাশে এদিন সকাল থেকেই মেঘ-রৌদ্রের লুকোচুরি। কখনও মেঘের আড়াল থেকে সূর্যের উঁকি,
কখনও ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। গ্রহণ দর্শনে কিছুটা আড়াল পড়লেও, শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টুকরো টুকরো ধরা পড়েছে বলয়গ্রাসের দৃশ্য।
মহাজাগতিক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের চোখ ছিল আকাশের দিকে। টেলিস্কোপে মগ্ন দৃষ্টি বিজ্ঞানীদের। কিন্তু, দিনভর মেঘ-রৌদ্রের খেলা, কিছুটা হলেও বাধ সেধেছে গ্রহণ-দর্শনে। তবে পুরোপুরি নিরাশ করেনি প্রকৃতি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেখা গিয়েছে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। সকাল থেকেই আলিপুরদুয়ারের আকাশ ছিল ঘন মেঘে ঢাকা।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই, মেঘ সরে যায়। ঝকঝকে আকাশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে গ্রহণ-দৃশ্য। কোচবিহার শহর থেকেও ধরা পড়ে গ্রহণের ছবি। যদিও এই দৃশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কিছুক্ষণ পরই বৃষ্টি নেমে যায়। সকাল থেকেই জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে বৃষ্টি। তবে তারই মধ্যে, ধূপগুড়ি থেকে গ্রহণের বিরল দৃশ্য চাক্ষুষ করেন বাসিন্দারা। কেউ রোদ চশমা পরে, কেউ আবার চোখ রেখেছেন এক্সরে প্লেটে। মাহেন্দ্রক্ষণকে ক্যামেরাবন্দি করার চেষ্টায় অনেকে। উত্তরবঙ্গের আরেক জেলা, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহর থেকে দেখা যায় আংশিক সূর্যগ্রহণ।
আকাশ মেঘলা থাকায়, মালদার অন্যান্য জায়গা থেকে দেখা না গেলেও চাঁচোল থেকে দেখা যায় গ্রহণের দৃশ্য। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি, এগরা, দিঘা…মেঘলা আকাশের ফাঁকে, বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেখা যায় গ্রহণের মুহূর্ত। সকাল থেকেই পশ্চিম বর্ধমানের আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। তবে, এরইমধ্যে, আসানসোল থেকে এক ঝলক দেখা মেলে বহু-কাঙ্খিত দৃশ্যের।
ফেসবুকে সরাসরি সূর্যগ্রহণ দেখানোর ব্যবস্থা করে পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্র। তবে, মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির জন্য কিছুটা বিঘ্নিত হয় প্রক্রিয়া। শিলিগুড়ির স্কাই ওয়াচার অ্যাসোসিয়েশন অফ নর্থ বেঙ্গলের পক্ষ থেকে ডাবগ্রাম মাইকেল স্কুলের মাঠে সূর্যগ্রহণ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্যামেরাবন্দি হয় আংশিক গ্রহণের মুহূর্ত। নদিয়ার কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড়ে বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যদের তত্ত্বাবধানে সূর্যগ্রহণ দেখানোর আয়োজন করা হয়। ভিড় করেন বহু উত্সাণহী মানুষ।
উত্তর-ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্যামেরাবন্দি হয় বলয়গ্রাস-সূর্যগ্রহণের মুহূর্ত। রাজস্থানের ঘরসানা থেকে শুরু হয় বলয়গ্রাস। শেষ হয় দেরাদুন পেরিয়ে উত্তরাখণ্ডের যোশীমঠে। বলয়গ্রাস চলে ৪ ঘণ্টা ধরে। শুরু হয় সকাল ১০টা ২০-তে। শেষ হয় দুপুর ২টো ২০তে। হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র থেকে দেখা যায় সূর্যগ্রহণ। গুজরাতের ভুজ থেকে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে শুরু হয় আংশিক গ্রহণ। শেষ হয় অসমের ডিব্রুগড়ে দুপুর ২টো ২৯-এ। আংশিক গ্রহণ চলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে। জম্মু থেকেও দেখা যায় আংশিক গ্রহণ।
ফের সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২ বছর ৪ মাস। ২০২২-এর ২৫ অক্টোবর পরবর্তী গ্রহণ। সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ ২০৩৪ সালে।