ডেক্সরিপোর্ট: সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুটি পরীক্ষায় ‘এ’ গ্রেড পেয়েছেন। ওই দুটি পরীক্ষার পর আর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি নুসরাত।
বুধবার প্রকাশিত আলিম পরীক্ষার ফলে দেখা গেছে, কোরআন মাজিদ (বিষয় কোড ২০১) ও হাদিস (বিষয় কোড ২০২) দুটি বিষয়ে নুসরাত ‘এ’ গ্রেড পেয়েছেন। অন্য বিষয়গুলোতে তাঁকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। এর কারণ তিনি ওই সব বিষয় অংশ নিতে পারেননি। ৬ এপ্রিল সকালে আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় এসে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার অনুসারীদের আগুন সন্ত্রাসের শিকার হন নুসরাত।
বুধবার দুপুরে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আনন্দের মধ্যেও সেখানে ছিল শোকের ছায়া। ফল প্রকাশের পর নুসরাতের সহপাঠী ও স্বজনেরা ছিলেন শোকাতুর। মাদ্রাসায় পরীক্ষার ফল জানতে আসা সহপাঠীরা নুসরাতের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষকদেরও কাঁদতে দেখা যায়। নুসরাতের দুই বিষয়ে পাস করার খবর পেয়ে মাদ্রাসা আঙিনায় সবার মধ্যে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
এদিকে আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশের খবর পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নুসরাতের মা শিরিনা আক্তার। স্বজনেরা চেষ্টা করেও কোনোভাবে তাঁর কান্না থামাতে পারছিলেন না। শিরিনা আক্তার বলেন, যারা তাঁর মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি শান্ত হতে পারবেন না।
নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান বোনের ফলাফলের প্রসঙ্গ উঠতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, নুসরাত খুব মেধাবী এবং পরিশ্রমী একজন ছাত্রী ছিল। আলিমের সবগুলো বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি জিপিএ ‘৫’ পেত । লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ প্রবল থাকায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাহস নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে দাখিল পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও দুর্বৃত্তরা চুন মেরে নুসরাতের মুখ ঝলসে দেয়। তখন অসুস্থ শরীর নিয়ে নুসরাত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছিল।