আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় মারুফা আক্তার (২৫) নামের এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে উপজেলার শৌলজালিয়া গ্রামের শ্বশুর বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মারুফা আক্তারের পরিবার অভিযোগের তীর ভাসুর মাহমুদ হোসেন ও (তার স্ত্রী) ঝা ঝুমুর বেগমসহ শশুর বাড়ির লোকজনের দিকে ছুড়েছে। তাদের দাবী, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে।
মারুফা আক্তারের বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর রমজানের ঈদে শৌলজালিয়া গ্রামের মো. মনোয়ার হাওলাদারের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. মিরাজ হোসেনের সাথে পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ তালগাছিয়া গ্রামের বড় হাওলাদার বাড়ির বাক প্রতিবন্ধী জিয়াউল হাসান হাওলাদারের কন্যা মারুফা আক্তারের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাস পর মিরাজ মালয়েশিয়া চলে গেলে মারুফা তার ভাসুর মাহমুদ ও তার স্ত্রী ঝুমুরের সাথে এক সাথে শ্বশুর বাড়ি থাকতো।
স্বামী ও শ্বশুর শাশুড়ি তাকে খুব ভালবাসায় বেশ সুখে-শান্তিতে সংসার করছিল মারুফা। কিন্তু খুটিনাটি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় তার ভাসুর মাহমুদ ও ঝা ঝুমুর বেগমের সাথে বিভিন্ন সময়ে মারুফার ঝগড়াঝাটি হতো।
শনিবার রাত ১০টার দিকে মারুফার বাবার বাড়ীতে ফোনে করে মারুফা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানানো হলে তারা ভাই-বোনেরা ছুটে আসে।
তারা পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে, মারুফাকে তার ভাসুর মাহমুদ ও ঝা ঝুমুর বেগম পরিকল্পিত ভাগে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে এখোন আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাচ্ছে। তাই তারা মারুফাকে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করেন।
এদিকে মারুফার বড় ভাসুর মো. মাহমুদ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, মারুফা আত্মহত্যা করেছে এটা শতভাগ সত্য তবে কি কারনে এটা করেছে তার কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। তারা বাড়ীর সবাই সাথে মিলে মিশে চলছিল। এখন যে যা বলুক ময়না তদন্তে তাদের কথার সত্যতা পাওয়া যাবে। তখন আর মারুফার পরিবারের ভূল ধারনা কেটে যাবে।
সে আরো জানায়, তার ছোট ভাইর সাথে বিয়ের আগ থেকেই মারুফার মাথায় কিছু সমস্যা ছিল। যা ওর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার লোকজন সবাই জানতো। বিয়ের পর আমার ভাই মিরাজ তার অসুস্থাতার জন্য বরিশাল, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীতে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছে।
এ বিষয় স্থানীয় শৌলজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহমুদ হোসেন রিপন জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে মোবাইলে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল যাই ও ওসিকে জানাই। পুলিশ এসে বেডরুমে ফ্যানের পাখার সাথে নিজ ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে ঝুলান্ত মারুফার লাশ উদ্ধার করে।
তবে যেই রুমের গলায় ফাঁস লাগানো হয়েছে তার দরজা খোলা (চাপানো) ছিল এবং মারুফার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যাচ্ছিল না। পরের দিন রবিবার সকালে ফোনটি নিকটবর্তী একটি পাট ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কাঠালিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. এনামুল হক জানান, শ্বশুর বাড়ির নিজ শয়ন কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলান্ত মারুফা আক্তার নামের এক নারীর মহদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কাঠালিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নাং-৯)। ময়নাতদন্তের রির্পোট আসলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং তখন প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।