শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং, রাত ১:১৯
শিরোনাম :
বরিশালে পিতা-মাতা হারা লামিয়ার পাশে দাঁড়ালেন মানবিক জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার নটরডেম কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলো বরিশাল জিলা স্কুলের ২৭ শিক্ষার্থী,প্রশংসিত প্রধান শিক্ষক! বরিশালে অসাধারণ আয়োজনে সাংবাদিকদের আনন্দ ভ্রমণ জাতীয় গ্রিডে নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সার্ককে সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ অবৈধ সুবিধা না পেয়ে এসআই বশিরের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার! চিকিৎসাধীন বিএনপি কর্মীর বাবাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন জিয়াউদ্দিন সিকদার বরিশালে ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিকে বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস পালিত আগামী নির্বাচনে ১২০টি প্রতীক নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন, ‘নৌকা’ স্থগিত দোষী প্রমাণ হলে-বিদেশে আরামের বদলে কারাবাসকেই বেছে নেব: আসিফ

অবৈধ সুবিধা না পেয়ে এসআই বশিরের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার!

ডেস্ক রিপোর্ট ।। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) বশির দায়িত্বপ্রাপ্তির পর থেকেই পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করে আসছেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন। 

তবে অল্প সময়ের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয়ের এমন নেতিবাচক অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছেও বলে সহকর্মীরা মন্তব্য করেছেন।  সংশ্লিষ্টদের দাবি, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুনের প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি সুবিধাভোগী মহল তার ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জানা গেছে, এসআই বশির গত ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অল্প সময়ের জন্য বিএমপির আরও-১ (RO-1) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালন শেষে তাকে অন্য একটি কর্মস্থলে বদলি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি পেশাগত দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও প্রচলিত নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এসআই বশির যে দায়িত্বে ছিলেন, সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু সদস্য দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক ও অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছিলেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সুযোগ-সুবিধা সীমিত হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে সুবিধাভোগী কয়েকজনের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। তাদের দাবি, ওই অসন্তোষের জের ধরে এসআই বশিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ  প্রকাশিত হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে তার দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ও সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো, অল্প সময়ের দায়িত্ব পালন করেই এসআই বশির বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন। তবে মাত্র প্রায় ১৫ দিনের দায়িত্বকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে উপার্জনের এমন দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট নথি, তদন্ত প্রতিবেদন বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, এসআই বশির দীর্ঘদিন ধরে বরিশালে দায়িত্ব পালন করলেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম বা অপকর্মের কোনো প্রমাণিত ঘটনা তাদের জানা নেই। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাকরিজীবনে অর্জিত আয় ও সঞ্চয় থেকেই নিজের জমিতে একটি ছোট একতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। তার সম্পদ বা আয়ের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তা কঠোর অবস্থান নিলে কিংবা কারও অনৈতিক সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীলভাবে অভিযোগ বা অপপ্রচার চালানো কাম্য নয়। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, এসআই বশিরের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা তদন্ত প্রতিবেদন, মামলা, নথি বা অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া উচিত।

অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকলে যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এদিকে এসআই বশির জানান, আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। যার সাথে আদৌ আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন স্যারদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।