রবিবার, ১লা নভেম্বর, ২০২৬ ইং, রাত ১১:০০
শিরোনাম :
সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাসে সিনিয়রের বিরুদ্ধে জুনিয়রকে স্টাম্প দিয়ে আঘাতের অভিযোগ শায়েস্তাবাদে জনগনের আস্থার প্রতীক বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী হেমায়েত হোসেন মুরাদ! বিএম কলেজে ছাত্রীদের জন্য পৃথক পাঠকক্ষ উদ্বোধন করলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী জাবের আহমেদ রাজধানীতে সাত রুটে কোম্পানিভিত্তিক ৮৬১ বাস চালু ৩ দাবিতে ৪ নভেম্বর মাঠে নামছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মেহেন্দিগঞ্জের পর এবার বাকেরগঞ্জে জামায়াতকর্মী সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের নাটক দারাজের ‘টপ অ্যাফিলিয়েট অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘অ্যাফিলিয়েট স্টার’ সম্মাননা পেলেন ফ্রিল্যান্সার আসিফ আলী বরিশাল বোর্ডে ১১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল,পাশের হার কমে ৪৪.৮৪ শতাংশ বরিশালে বি.এন.খান কলেজের নাম ব্যবহার করে সংখ্যালঘু পরিবারের সম্পত্তি দখল চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেরেবাংলা সম্মাননা পেলেন কথা সাহিত্যিক মামুন-অর-রশিদ

সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাসে সিনিয়রের বিরুদ্ধে জুনিয়রকে স্টাম্প দিয়ে আঘাতের অভিযোগ

মেহেরাব হোসেন রিফাত, বরিশাল ।। বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাসে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে সিনিয়র শিক্ষার্থী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

গতকাল শনিবার রাতে ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী ও হল তত্ত্বাবধায়কের সূত্রে জানা যায়, হলের পুকুরের মাছ ধরা এবং ছাত্রাবাসের পুরোনো কিছু বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির সময় নজরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে আবাসিক শিক্ষার্থী আসিফের মাথায় ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের ছাত্রত্ব নেই বলেও অভিযোগ করেছেন ছাত্রাবাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ বলেন, আমাকে হলের তত্ত্বাবধায়ক বিষয়টি জানিয়েছে। তাদেরকে থানায় অভিযোগ করতে পরামর্শ দিয়েছি। আমাকে জানানো হয়েছে, পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে একটি ঘটনার সূত্র ধরে নজরুলের সঙ্গে হলের আরেক শিক্ষার্থী আসিফের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নজরুল ওই শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। আমি তাকে দেখতে হাসপাতালে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু জানতে পারি চিকিৎসা নিয়ে ওই শিক্ষার্থী বাসায় ফিরে গিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নজরুলের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ পেয়েছি। কেউ বলছেন, তিনি অবৈধভাবে হলে থাকছেন, আবার কেউ বলছেন তাঁর বৈধতা রয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে হবে। এ ঘটনায় আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
হলের পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদের দেখতে হবে। আমরা চাই না, সেখানে কোনো ঝামেলা তৈরি হোক।

এ বিষয়ে সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কিছুটা মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি হলে নজরুল আসিফ নামের ওই শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত করে। তবে আহত শিক্ষার্থী আসিফের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন বিষয়ে আগে একাধিকবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে এসব বিষয়ে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু সতর্ক করার পরও সে নিজেকে সংশোধন করেনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বসার কথা জানিয়েছেন।

ছাত্রাবাসের পুকুরের মাছ ধরা ও বিক্রির বিষয়েও কথা বলেন হল তত্ত্বাবধায়ক। তিনি বলেন, হোস্টেলের বিষয়টি নিয়ে এর আগেও নজরুলকে সতর্ক করা হয়েছে। তাকে হোস্টেল ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। হোস্টেলের পুকুরের কিছু মাছ ধরা ও বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থের কোনো অংশ হোস্টেল ফান্ডে জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে এবং হোস্টেল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো সে হোস্টেল ছাড়েনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে আহত শিক্ষার্থী আসিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়