রিপোর্ট নিজস্ব প্রতিবেদক:বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রণীত “গণমুখী পুলিশিং : বরিশাল রেঞ্জ” শীর্ষক বইয়ের আত্নপ্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১১ টায় বরিশাল নগরীর কাশিপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এ বইয়ের মোড়ক আত্নপ্রকাশ করা হয়।
এ সময় রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন,তিনি বরিশালে যোগদান করার পর বরিশাল বিভাগের ৬ টি জেলায় মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরাধেী কার্যক্রম থেকে শুরু করে কমিউনিটি পুলিশিং কে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন, তথ্য/অভিযোগ বক্স স্থাপন, বিট পুলিশিং চালুকরণ,
রেঞ্জ পুলিশের এ্যাপস তেরী এবং এগুলোর যথাযথ প্রয়োগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে জনবান্ধব পুলিশি সেবা আনাচে-কানাচে পৌছে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রেঞ্জের কার্যক্রম সবার কাছে বই আকারে তুলে ধরার জন্য “গণমূখী পুলিশিং : বরিশাল রেঞ্জ”বইটি আত্মপকাশ করতে যাচ্ছে। ২৩৮ পৃষ্ঠার বইটিকে মোট ২৪ টি অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। বইটিতে পুলিশি সেবাকে জনগণের দোরগাড়ায় পৌছে দেয়া এবং সমাজকে সবার জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রচলিত আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি বিট পুলিশিং, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি পুলিশিং, স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং, পরিবহন কমিউনিটি পুলিশিং সহ বিভিন্ন গণমূখী পুলিশিং এর উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়াও সাধারণ জনগণ কর্তৃক পুলিশকে তথ্য প্রদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বরিশাল রেঞ্জে অদ্যাবধি ৩২৯ টি তথ্য/অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে।
বরিশাল রেঞ্জে জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে বিট পুলিশিং/উঠান বৈঠক ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। রেঞ্জের ছয় জেলার থানাগুলোকে মোট ৩৬৫টি বিটে ভাগ করা হয়েছে। ছয় জেলায় কমিউনিটি পুলিশিং এর ছয় জেলা সমন্বয় কমিটি, ৪৫টি থানা সমন্বয় ও কার্যকর কমিটি, ৩৬১টি পৌর/ইউপি সমম্বয় কমিটি ও ৩২৪৯টি ওয়ার্ড কমিটিসহ সর্বমোট ৩,৬৬১টি কমিটি গঠন/পুনর্গঠন করে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্মম পরিচালিত হচ্ছে।

২০১৫- ২০১৭ সময়ে বরিশাল রেঞজে মোট মাদক সংক্রান্ত মামলা ছিল ৩৯০১টি; যাতে গ্রেফতারকৃত মোট আসামী ছিল ৫৭৮০ জন। পরবর্তীতে ২০১৭-২০১৯ সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান ব্যাপকভাবে পরিচালনার ফলে মাদক সংক্রান্ত মামলা বৃদ্ধি পেয়ে এর সংখ্যা ৮৬৩৮ এ উন্নীত হয়; যাতে আগস্ট/২০১৯ পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত মোট আসামীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৬৭৫ জনে। পুলিশের মাদক বিরোধী প্রচারণায় সাড়া দিয়ে বরিশাল বিভাগের ৬ টি জেলায় মোট ১০২৮ জন মাদক ব্যবসায়ী/সেবী আত্মসমর্পণ পূর্বক মাদকের দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে নতুন জীবনে ফিরে এসেছে।
এছাড়াও মাদকসেবীদের পুর্নবাসনের লক্ষ্যে তাদের বিনামূল্যে/স্বল্পমূল্যে মাদক নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসা, পুর্নবাসনমূলক কর্মসূচী ও রেজিসটার্ড সমবায় সমিতি গঠনের বিষয়েও বইটিতে সন্নিবেসিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজি বলেন,রেঞ্জের কার্যক্রম বই আকারে তুলে ধরার কারন অন্যদের উৎসাহিত করা।তিনি বলেন,দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সাথে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পর্কিত। সুখী, সমৃদ্ধ এবং সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য সোনার বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশ পুলিশ বন্ধপরিকর।
এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য কাঙ্খিত পুলিশি সেবা প্রদানে গণমুখী পুলিশিং কার্যক্রম শুরু করা হয়। আর এর ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবে ‘গণমুখী পুলিশিং: বরিশাল রেঞ্জ’ পুস্তকটি প্রকাশ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম এহসান উল্লাহ।বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার পুলিশ সুপার বরিশাল মেট্টোপলিটন প্রেসক্লাব সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।