প্রযুক্তি ডেস্ক শাওমি স্মার্টফোনের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের তথ্য চুরির অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকের ব্রাউজিং ডেটা গোপনে চীনে পাঠাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ভারতের এক ইন্টারনেট সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান শাওমির বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ আনে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চীনে আলিবাবার সার্ভারে গ্রাহকের ব্রাউজিং ডেটা পাঠায় বেজিংয়ের কোম্পানিটি। স্মার্টফোনের সঙ্গে থাকা ওয়েব ব্রাউজারের তথ্যের সঙ্গেই ‘ইনকগনিটো’ মোডের ব্রাউজিং ডেটাও চিনে পাঠাচ্ছে শাওমি।
ইন্টারনেট সুরক্ষা গবেষক গাবি সার্লিগ ও অ্যান্ড্রু টিয়ের্নি শাওমি ফোনের সুরক্ষা গাফিলতি সামনে এনেছেন। তারা জানিয়েছেন গ্রাহকের সম্মতি না নিয়েই ব্রাউজিং ডেটা সংগ্রহ করছে চীনের কোম্পানিটি। সম্প্রতি জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত রিপোর্টে এ কথা জানানো হয়েছে।
সার্লিগ আরও বলেন, ব্রাউজিং ডেটা ছাড়াও স্মার্টফোনে কোন ফোল্ডার ওপেন করেছেন সেই তথ্য সংগ্রহ করেছে কোম্পানিটি। এছাড়াও স্মার্টফোনের কোন কোন স্ক্রিন ব্যবহার হচ্ছে সেই তথ্যও পাচার করেছে শাওমি।
তবে এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে শাওমি। ব্যবহারকারী যদি ইনকগনিটো মোডে রেখেও ইন্টারনেট সার্চ করেন তাহলেও তথ্য ট্রান্সফার হয়ে যাচ্ছিল। তবে এই তথ্য পৌঁছাচ্ছে শুধুমাত্র তাদের সার্ভারে, কোন তৃতীয় সার্ভারে এই তথ্য ট্রান্সফার করা হয়নি।
ফোর্বসের প্রতিবেদনকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট তথ্যের গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। একই সঙ্গে তথ্য-নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরন করি।’
সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শাওমির অ্যাপ্লিকেশনগুলো এই রেকর্ড করা তথ্যগুলো এমন সার্ভারেই পাঠাচ্ছিল যেগুলোর সঙ্গে সেন্সার্স অ্যানালিটিক্সের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তবে শুধু এইবারই প্রথম নয় এর আগেও এই ধরনের বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল চীনের এই জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে।
স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ব্যবহারকারীদের কিছু তথ্য অ্যালাও অপশনের মাধ্যমে নিয়ে থাকে। আর এর জন্য নির্মাতারা কারণ দেখান, ব্যবহারকারীদের সচরাচর ব্যবহার সম্পর্কে জানলে পরবর্তীতে আরো ব্যবহারবান্ধব সেবা দেয়া যাবে।