রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, বিকাল ৩:১৯
শিরোনাম :
বরিশালে ফিরোজ ও এনায়েতের নেতৃত্বে ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি বাঁধনের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএম কলেজে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ বিএম কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন কলেজে আলোচনা সভা সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড.মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর!

মুলাদী নদীর গ্রাসে ছোট হয়ে আসছে মানচিত্র

 

নিজস্ব প্রতিবেদক   বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলা অব্যাহত নদী ভাঙনে গ্রাসের মুখে বিলীন হয়ে যেতে শুরু করেছে বিস্তৃর্ণ এলাকা। জয়েন্তী আড়িয়াল খাঁ, ছৈলা ও নয়া ভাঙ্গলী নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। অব্যাহত নদী ভাঙনে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে উপজেলার মানচিত্র। সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। রাস্তা-ঘাট নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

জয়েন্তী ও ছৈলা নদীর ভাঙনে উপজেলার উত্তর চরগাছুয়া, কৃষ্ণপুর, ঘোলঘর, চরমালিয়া, ব্রজমহন, বালিয়াতলী, ঘুলিঘাট, সেলিমপুর, আলিমাবাদ ও ভাঙ্গারমোনা গ্রামগুলো বিলিন হতে চলেছে। আড়িয়া খাঁ নদের ভাঙনে নাজিরপুর, রামারপোল, কাজিরচর, সাহেবেরচর, বানীমর্দন, নবাবেরহাট, নন্দিরবাজার, চিলমারী, পশ্চিম চরকালেখান, পাতারচর গ্রামের বেশির ভাগ এলাকা ইতোমধ্যেই নদীতে বিলীন হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে অনেক পরিবার।

এলাকাবাসী জানান, ২০১৯ সালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে বাটামারা ও সফিপুর ইউনিয়নের দুটি গ্রামে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও নদীর পাড়ের মাটি বিক্রি করায় নদীভাঙন বেড়েই চলছে।

ছৈলা, জয়েন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনরোধ না করলে পাল্টে যাবে মুলাদী, নাজিপুর, সফিপুর, বাটামারা ও রামচরসহ কয়েকটি গ্রামের মানচিত্র।

নাজিরপুর ইউনিয়নের পুলিশ ফাড়ির পশ্চিম পাশে নদীতে ফেলা সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে সফিপুরের ব্রজমহন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজ, নাজিরপুর ইউনিয়নের চর নাজিরপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাটামারা ইউনিয়নের এবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য হাট-বাজার।

এলাকার ইউপি সদস্য আলী আহম্মেদ খান, প্রবীণ শিক্ষক বাচ্চু ভূঁইয়া ও রাজনীতিক ইমরান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নদী ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না করলে অচিরে উপজেলার অনেক গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। হাজার হাজার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করবে। অব্যাহত নদী ভাঙনের হাত থেকে গ্রামগুলোকে রক্ষার জন্য নদীতে সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলানোর আবেদন জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী।