সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং, বিকাল ৫:৫৪
শিরোনাম :
কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফেল করানো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী হাসপাতালে সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুর পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা উন্নয়নে পরিবর্তনের প্রত্যয়,জাগুয়া ইউনিয়নবাসীর আস্থার প্রতীক কামরুজ্জামান সালেহ! সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার জাসদ কার্যালয় থেকে আটক হওয়া ২৫৪ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ জীবন থেকে ১৭ বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে: পানিসম্পদমন্ত্রী কেদারপুরের ইউপি চেয়ারম্যান ও ফ্যাসিস্ট আ’লীগ নেতা নুর আলম বেপারী গ্রেপ্তার দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে ২৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সোহাগ হাওলাদারের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি, কোটি কোটি টাকা লোপাট চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবাকে রুটি-চা খাইয়ে দিল মেয়ে

নড়াইলে এইচএসসি পরীক্ষায় হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান প্রিয়াংকার জিপিএ-৫ লাভ

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:নড়াইলে এইচএসসি পরীক্ষায় হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান প্রিয়াংকার জিপিএ-৫ লাভ হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান অদম্য ও সাহসি প্রিয়াংকা অনেক বাঁধাকে উপেক্ষা করে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

প্রতিদিন সে তিন কিলোমিটার বাই সাইকেল চালিয়ে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজে এসে ক্লাস করেছে। ইচ্ছা এবং চেষ্টা থাকলেই যে ভালো ফলাফল করা যায় প্রিয়াংকা তার প্রমাণ। নড়াইল সদরের দ‚র্গাপুর গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি ও ঘরামি তাপস গাঙ্গুলির কন্যা প্রিয়াংকা। বসতভিটার ৭ শতাংশ জমি ছাড়া তাদের চাষের আর কোনো জমি নেই। চার জনের সংসারে তাপস গাঙ্গুলি অন্যের ছন বা টিনের ঘর তৈরি করে যা পান তাই দিয়ে সংসার চলে।

নিজে ঘরামি হলেও বসবাসের মাত্র একটি ঘর রয়েছে। বাড়িতে নিজস্ব বিদ্যুৎ লাইন নেই। অন্য বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এনে লেখাপড়ার কাজ চলে। প্রিয়াংকার মা কাঞ্চন গাঙ্গুলি বাড়ির উঠানে শাক-সবজি, হাঁস-মুরগির চাষ করে বাড়তি আয়ের চেষ্টা করেন। অভারে সংসারে প্রতিদিন সে তিন কিলোমিটার বাই সাইকেল চালিয়ে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজে এসে ক্লাস করেছে।

প্রিয়াংকার বাবা তাপস গাঙ্গুলি ও তার মা কাঞ্চন গাঙ্গুলি জানান, আমরা ভাবতে পারিনি প্রিয়াংকা এতো ভালো ফলাফল করবে। যেভাবে হোক অনেক কষ্ট করে সে এইচএসসি পাশ করেছে। স্কুল ও কলেজে আমরা তার লেখাপড়ার খরচ ঠিকমতো বহন করতে পারিনি। এখন তার উচ্চ শিক্ষার খরচ কিভাবে বহন করবো ! প্রিয়াংকা জানান, বাইসাইকেল চালিয়ে কলেজে আসায় এলাকার অনেকে এবং বন্ধু-বান্ধবিরা ভালো চোখে দেখতো না।

লেখাপড়ার খরচ চালাতে নিজে কখনও কখনও টিউশনি করেছে। ইচ্ছা এবং চেষ্টার কারনেই সে ভালো ফলাফল করেছে। তার ফলাফলে শিক্ষকরা সব সময় সহোযোগিতা করেছেন। লেখাপড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়।

প্রিয়াংকার শিক্ষক প্রভাষক প্রশান্ত সরকার জানান, প্রিয়াংকা অনেক কষ্ট স্বীকার করে বাইসাইকেল চালিয়ে কলেজে ক্লাস এবং লেখাপড়া করেছে। দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে তার উচ্চ শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব। এজন্য তিনি সমাজের বিত্তবান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।