বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ৩:১৭
শিরোনাম :
বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ নলছিটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সচেতনতায় তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত তারুণ্যের নলছিটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বরিশালে সাগরদী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে ফের হয়রানী, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! ২৮ অক্টোবর ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায়: অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: আইসিটি মন্ত্রী সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ ও ডিজিটাল সচেতনতায় নলছিটিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত বরিশালে সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর :কনস্যুলেটের দুর্বলতা ছিল কিনা,জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

নড়াইলের সীতারামপুর গ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ সেঁতু দিয়ে জীবনের নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার!

উজ্জ্বল রায়,নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামে খালের ওপর সেঁতুটির বেহাল দশা। স্থানীয় লোকজন সেঁতুটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কায় সেঁতুর নিচে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছেন। সেঁতুটির পাটাতনের ঢালাই ভেঙ্গেও দুটি বড় গর্ত হয়েছে। অন্তত ১২টি গ্রামের লোকজন ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু দিয়ে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জনস্বার্থে সেঁতুটি দ্রুত পুনর্র্নিমাণ করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দফতরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামে খালের ওপর সেঁতুটি নির্মাণ করে। যে কোনো মুহূর্তে সেঁতুটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে জন্য সেঁতুর নিচে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।

বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুলিয়া ও হিজলডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হিজলডাঙ্গা ও সীতারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ওই সেঁতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন। এ ছাড়া নড়াইলের সীতারামপুর, দুর্বাজুড়ি, ইচড়বাহা, বাঁশভিটা, হিজলডাঙ্গা, শালিয়ারভিটা, মুলিয়া, পানতিতা, কোড়গ্রাম, বালিয়াডাঙ্গা, বড়েন্দার ও গোয়ালডাঙ্গাসহ আশপাশের গ্রামের মানুষদের চলাচলের জন্য ওই সেঁতু ব্যবহার করতে হয়। সেঁতুর ওপর দিয়ে পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও রোগীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

হিজলডাঙ্গা গ্রামে বাংলা পৌষ মাসের শেষদিনে ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তি মেলা প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়ভাবে ‘পাগল চাঁদের মেলা’বলে পরিচিত। লোকজ ঐতিহ্যের এ মেলায় দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ যানবাহনসহ ওই সেঁতু ওপর দিয়ে এসে ওই মেলায় অংশ নেয়। ওই সেঁতু ব্যবহার বন্ধ না করলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

মুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য সীতারামপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ‘কয়েক মাস আগে নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে সেঁতুটির কিছুটা অংশ সংস্কার করেছিলাম। তাই ভ্যান ও সাইকেল যাতায়াতের ব্যবস্থা হয়েছে। ১২টি গ্রামের মানুষের জন্য সেঁতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ নড়াইলের মুলিয়া ইউপি বারবার নির্বাচিত সফল জন প্রতিনিধি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী জানান, ‘সেঁতুটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতরে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।’

নড়াইল সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানানকে বলেন, ‘আমি ও নির্বাহী প্রকৌশলী বিধানচন্দ্র সমাদ্দার ওই সেঁতুটি দেখে এসেছি। সেঁতুটি নতুনভাবে নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এটি অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা হবে।