ডেস্করিপোর্ট ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সারা দেশে বাস ধর্মঘটের কারণে দূরপাল্লার যাত্রীদের এখন একমাত্র ভরসা ট্রেন। শুক্রবার সকাল থেকে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সেই চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত বগি দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
তবে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় শনিবার যারা কমলাপুর স্টেশনে গেছেন, তাদের অধিকাংশই ট্রেনের টিকিট পাননি। এদিকে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামলাতে বিভিন্ন ট্রেনে ২২টি অতিরিক্ত বগি যোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও যোগ করা হবে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার।
তিনি বলেন, ‘ধর্মঘট থাকার কারণে ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। আমাদের যাত্রী দ্বিগুণ হয়েছে। আমরা বিভিন্ন ট্রেনে ২২টি অতিরিক্ত বগি যোগ করেছি। প্রয়োজনে আরও যোগ করা হবে।’
তবে, করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে এখন দাঁড়িয়ে ভ্রমণের (স্ট্যান্ডিং) টিকিট বিক্রি করছে না রেল কর্তৃপক্ষ। টিকিট ছাড়া কাউকেও উঠতে দিচ্ছে না। ফলে যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে বড় দুর্ভোগে।
বিষয়টি নিয়ে মাসুদ সরোয়ার বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের উঠাচ্ছি। এখানে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রির কোনো নির্দেশনা এখনো আসেনি।’
এদিকে রেলস্টেশনগুলোতে ধাক্কাধাক্কি করে কার আগে কে নিতে পারেন টিকিট নামের সোনার হরিণ, চলছে তারই প্রতিযোগিতা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও টিকিট না পেয়ে ফিরে যেতে হয় অনেককেই।
শুক্রবার (৫ নভেম্বর) দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দিন শেষে রাতেও ছিল কমলাপুর রেলস্টেশন বাড়িফেরা মানুষের উপচেপড়া ভিড়, যা আজ আরও বেড়েছে।
যাত্রীরা বলছেন, ঢাকায় এসে আমরা খুব বিপদে পড়ে গেছি। সিট ছাড়া টিকিটও দিচ্ছে না। থাকার মতো কোনো অবস্থান না থাকায় আমাদেরকে ফিরতে হচ্ছে। কিন্তু যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে রাতটা স্টেশনেই থাকতে হবে। আবার যারা টিকিট পেয়েছেন তাদেরও অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় ট্রেনের জন্য। প্লাটফর্মে ট্রেন আসামাত্রই হুমড়ি খেয়ে পড়েন যাত্রীরা।
যাত্রীরা বলছেন, ভাড়া যতই বাড়ানো হোক না কেন আমাদের তো যেতেই হবে। তবে আমাদের অনুরোধ থাকবে যেন জনসাধারণের আয়ত্তের মধ্যেই ভাড়াটা থাকে।
এদিকে ডিজেলের দাম বাড়ানোয়, শনিবার (৬ নভেম্বর) থেকে লঞ্চের ভাড়া বাড়াতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন মালিক সমিতি। অন্যথায় নৌযান চলাচলও বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে হঠাৎ গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে সাধারণ মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজে ভর্তি এবং একদিনে ২৬টি সরকারি চাকরি পরীক্ষা ছাড়াও নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে রাজধানীতে এসে আটকা পড়েছেন বহু মানুষ। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সারা দেশে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ।