ডেস্করিপোর্ট প্রমত্তা পদ্মায় বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় আনন্দ র্যালী বের করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুন) কুষ্টিয়ায় সকাল ৯টায় প্রমত্তা পদ্মায় বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় আনন্দ উদযাপন করা হয়।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঐতিহাসিক এ অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের সকল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যবৃন্দ পুলিশ লাইন্স এসএএফ মেস “নির্ঝর” রুমে সমবেত হয়ে এবং একই সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চত্ত্বরে কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের লোকজন আনন্দ র্যালি নিয়ে একত্রিত হয়ে লাইভ সম্প্রচার প্রত্যক্ষ করে আনন্দ উদযাপন করেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত পদ্মা সেতু শুভ উদ্বোধন করেন। মননীয় প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন ২০১০ সালে পদ্মার উপর একটি দোতলা সেতু তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার। সেতুর নীচতলায় থাকবে রেলপথ। উপরে চার লেনের চওড়া রাস্তায় ছুটবে গাড়ি। এত বড় প্রকল্প থেকে সরে গেল বিশ্বব্যাঙ্ক। কিন্তু স্বপ্নপূরণে বদ্ধপরিকর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানালেন, বাংলাদেশ নিজেই শেষ করবে সেতুর কাজ। অনেকে মনে করেছিলেন অসম্ভব। কিন্তু ২০১২ সালের জুলাই মাসে মন্ত্রিসভা জানিয়ে দেয়, নিজেদের স্বপ্ন নিজেরাই পূরণ করবে। কেউ কেউ অবশ্য দাবি করেছেন, বিদেশি সাহায্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই সব দাবি – অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। শনিবার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হল বাংলাদেশ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়া পয়েন্টে নিজ হাতে টোল দিয়ে টোলের টিকিট নিজে সংগ্রহ করে নয়া ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশে। শনিবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে শোনা গেল সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার লাইন। তিনি বলেন, ‘‘কারও বিরুদ্ধে আমার কোন অনুযোগ নেই। আমরা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা দেশবাসীকে নিয়ে সব সমস্যা মোকাবিলা করে যাচ্ছি।’’ তিনি এর পর সুকান্তের কবিতা থেকে দুটি লাইন শোনান, ‘‘জ্বলে পুড়ে – মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়। আমরা মাথা নোয়াইনি, আমরা মাথা নোয়াব না। জাতির পিতা আমাদের মাথা নোয়াতে শেখাননি।’’
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের লোকজনের সাথে এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ প্রত্যক্ষ করে আনন্দ উৎসব ভাগাভাগি করে নেয়।

পরবর্তীতে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২ টায় পুলিশ সুপার কুষ্টিয়া মোঃ খাইরুল আলমের নের্তৃত্বে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স হতে প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো, বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে জেলা পুলিশ কুষ্টিয়ার পক্ষ থেকে স্বপ্ন জয়ের আনন্দ র্যালি বের করা হয়। জেলা পুলিশ কুষ্টিয়ার সকল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য এবং পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক – শিক্ষিকা এই র্যালিতে অংশ গ্রহণ করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন হাজী রবিউল ইসলাম, চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ কুষ্টিয়া, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ( সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার), মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা), মোঃ রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), মোঃ আতিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), মোঃ ইয়াছির আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল), মোঃ আজমল হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (মিরপুর সার্কেল), ডাঃ এস এম মুস্তানজিদ, আহবায়ক, নাগরিক কমিটি, বীর মুক্তিযোদ্ধা বৃন্দ, কুষ্টিয়া জেলার ৭টি থানার অফিসার ইনচার্জসহ সকল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য বৃন্দ, কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের লোকজন এবং ইলেকট্রনিকস, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।