শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, সকাল ৯:১৪
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড.মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর! বরিশালের এআরএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন ও বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস কে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ শোকাহত আব্দুস সালামের পরিবারের পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা মুলাদীতে এনসিপির ৩৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বরিশাল সারস্বত গালর্স স্কুলের প্রধান শিক্ষককে পেটালেন সহকারী শিক্ষক!

নিজস্ব প্রতিবেদক  ক্লাস চলাকালীন সময়ে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা সহ ইচ্ছা মাফিক ক্লাস রুটিন তৈরী করে নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রমের প্রতিবাদ করায় নগরীর কালিবাড়ি রোড জগদীশ সারস্বত গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষককে মারধর করে সহকারী শিক্ষক কাওসার হোসেন সহ কয়েকজন কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষক।

আজ রবিবার ( ৯ ফেব্রয়ারী) সকাল পোনে ১১ টার দিকে স্কুলে বসেই প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহ আলমকে মারধর করে সহকারী শিক্ষক কাওসার হোসেন।

প্রধান শিক্ষক শাহ আলম স্কুলের শিক্ষকদের রুটিন তালিকা দেখিয়ে অভিযোগ করে বলেন, তার স্কুলের শিক্ষকরা তাদের ইচ্ছেমত রটিন তৈরী করে ক্লাস করতে চাইলে এতে বাধা হয়ে দাড়ায় প্রধান শিক্ষক। স্কুলে প্রধান শিক্ষক শাহ আলম ও চারজন খন্ডকালীন শিক্ষকসহ আরো একুশজন শিক্ষক উক্ত স্কুলে কর্মরত রয়েছে। এরা সকলেই বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থেকে স্কুলের নিয়ম ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ৩য় শ্রেণী থেকে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রীদেরকে চাপ প্রয়োগ করে স্কুলের ভিতরে কোচিং সেন্টার বাণিজ্য খুলে বসেছে।

এদের ভিতর কয়েকজন শিক্ষক প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থীদেরকে বাধ্যতামূলক কোচিং করিয়ে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা সামান্য মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছ থেকে ফেল করার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এবিষয়ে একাধিক বার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন ও সাবেক স্কুল কমিটির কাছে অভিযোগ দিয়েও তারা কোন সুফল পায়নি।

এমনকি এসকল রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা শিক্ষকদের দাপটে স্কুল কমিটি থেকে কয়েকজন পদ থেকে চলে যাওয়ার পর থেকে যে যার মত স্কুলকে ব্যবহার করে অর্থ-কড়ি লুঠপাট করে খাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

স্কুলে অবস্থানকালে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য থেকে জানা যায়, এমদাদুল আব্দুল একজন ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তিনি ক্লাস নেন ইংরাজি ও গণিত বিভাগের।

অপর শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক যার নিয়োগ বৈধতা নিয়ে স্কুলে প্রশ্ন রয়েছে। সে স্কুলে গার্হস্থ্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লস নেন। তিনি ৯০ সাল থেকে এখানে অবৈধভাবে জোড়পূর্বক চাকুরী করে যাচ্ছেন নেতাদের আর্শিবাদপুষ্ট হয়ে।

নেহার বেগম (যুব মহীলা লীগ নেত্রী) স্কুলের সহকারী লাইব্রেরিয়ান হয়ে তিনি কোচিং করান ইংরেজী ও গণিত। এদের ভিতর আরো একজন সাবেক মেয়র শওকত হোসেনের অশির্বাদে চাকুরী পাওয়া রোজিনা মমতাজ নুপুর তার ক্ষতার দাপট আকাশ ছোয়া বলে জানা গেছে।

এসময় কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, প্রধান শিক্ষকের সাথে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। স্কুলের কিছু হিসাব নিকাশ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা সঠিক হয়নি।

জানা গেছে- আজকের প্রধান শিক্ষক লাঞ্চিতকারী সহকারী শিক্ষক কাওসার হোসেন এক সময় স্কুলের কোচিং ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ছিল। বর্তমানে কয়েকজন অর্থলোভী শিক্ষকের পাল­ায় পড়ে সেও এখন অর্থ ও দূর্নীতির দিকে পা বাড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শাহ আলম তার গায়ে হাত তোলার কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ১৭ সালের ১লা আগস্ট এই স্কুলে যোগদান করার পর থেকেই দেখতে পায় এখানে শিক্ষকদের স্কুলে আসা-যাওয়ার কোন নিয়ম নীতি নেই। নেই কোন স্কুলে শৃঙ্খলা। এসব কাজে বাধা প্রধান করার পর থেইে কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষিকারা একজোট হয়ে আমাকে প্রায় সময় অপদস্থ করে যাচ্ছে। তাদের স্বার্থ হাছিলের জন্য এ ব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারন ডায়েরী করাসহ শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান ও সাবেক কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া আছে।

এ ব্যাপারে হামলাকারী সহকারী শিক্ষক কাওসার হোসেন বলেন, আমি প্রধান শিক্ষকের গায়ে হাত তুলিনি তবে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জগদীশ সারস্বত স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক কমিটির সভাপতি নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলটিতে রাজনৈতীক প্রভাব বিস্তার করার কারনেই এখানে মেয়েরা ভর্তি না হয়ে দুরের স্কুলগুলো ভর্তি হয়। তাছাড়া স্কুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়ার চেয়ে কোচিং ব্যবসা নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা বেশী। এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনেক সময় কতিপয় শিক্ষকের চক্ষুশুলের কারন হওয়ার কারনেই আমরা কমিটি থেকে বের হয়ে এসিছি।

তিনি আরো বলেন, সরকার এই বে-সরকারী স্কুলটি এমপিও ভূক্ত করার পরও এখানকার শিক্ষকরা ১০% পার্সেন্ট টাকা পাওয়ার স্থানে তারা ৬০% থেকে ৭০% পাসেন্ট টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্কুলটি লুঠেপুটে খাওয়ার ধান্ধায় রয়েছে।

তিনি মনে করেন যেহেতু গত ২ মাস হয়েছে স্কুল কমিটি নাই তাই তিনি এই স্কুলটির পুণঃ মর্যাদা ধরে রাখার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।