বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, সকাল ৭:১৭
শিরোনাম :
বিএমপি’র পুলিশ কর্মকর্তা এসআই বশিরকে নিয়ে ফের ষড়যন্ত্র, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! নিউনেস ল্যাবরেটরি স্কুলে মায়েদের মিলনমেলা, ‘মাদার্স মোমেন্ট’ অনুষ্ঠিত বিএম কলেজের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি লাকসামে ঢাকাগামী কর্ণফুলি এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, চট্টগ্রাম-ঢাকা রেল যোগাযোগ বন্ধ দূর্গাপূজা উপলক্ষে বিআরটিসি’র স্পেশাল বাস সার্ভিস,প্রশংসিত ম্যানেজার জুলফিকার! প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বরিশালে ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন স্বৈরাচার অর্থ সরবরাহ করছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী ভাটারায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি থেকে মাদক-নারীসহ আটক ৮৪ নিউনেস ল্যাবরেটরি স্কুলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু বিএম কলেজের বাস ও হোস্টেল সংকট সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন স্পিকার

মুজিববর্ষে বাংলাদেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

ডেক্সরিপোর্ট  আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মুজিববর্ষে বাংলাদেশের কোনো মানুষ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এত নেতাকর্মী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এত সৈনিক, আমি তাদের অনুরোধ করব, আপনারা এলাকায় যান, খোঁজ নিন ক’টা মানুষ গৃহহীন, ভূমিহীন আছে। আপনারা খুঁজে বের করেন, আমরা তাদের ঘর করে দেব। আপনি পয়সা খরচ করতে না পারলে সরকারের পক্ষ থেকে করে দেব, ট্রাস্টের পক্ষ থেকে করে দেব। কিন্তু আমি তাদের ঘর দিয়ে যেতে চাই। আজ যারা এ হলে বসেছেন শুধু তারা নন, সারা বাংলাদেশের মুজিব আদর্শের প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রতি আমার এ আহ্বান।

শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা ৩টায় শুরু হলেও আলোচনা সভায় নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই আসতে শুরু করেন। দুপুর ১২টার মধ্যে পুরো মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা না হওয়ায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিলনায়তন মুখরিত করে তোলেন। ৫টা ১৫ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে দীর্ঘ ৩৫ মিনিট বিভিন্ন বিষয়ে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার জন্য আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। সারা বিশ্বের স্বীকৃতি পেয়েছি। সারা জীবন তিনি সংগ্রাম করেছেন। পাকিস্তান আলাদা রাষ্ট্র হওয়ার পরই আমাদের মাতৃভাষার ওপর আঘাত এলো। তারা আমাদের ওপর উর্দু চাপিয়ে দিল। তখনই বঙ্গবন্ধু সিদ্ধান্ত নিলেন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মুজিববর্ষ উদযাপনে অনেক কর্মসূচির চিন্তা করছি। জাতির পিতা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ যেন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান পায়। তিনি সংবিধানে মৌলিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে গেছেন। তার স্বপ্ন ছিল একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। এজন্য তিনি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, এখনও আমাদের দেশে নদী ভাঙনে মানুষ গৃহহারা হয়। দেশে কিছু মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়, যারা ভূমিহীন, গৃহহীন। আমি চাই মুজিববর্ষ আমরা উদযাপন করছি, এ মুজিববর্ষের ভেতরেই গৃহহীনদের ঘর করে দেব। বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গে জাতির পিতার কন্যা বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রেরণা জুগিয়েছিল। স্বাধীনতার রক্তক্ষয়ী ৯ মাস সব সময়ই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ চলত। মুক্তিযোদ্ধারা এ ভাষণ শুনতেন, তারা যুদ্ধের অনুপ্রেরণা নিতেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের একেকটা লাইন, একেকটা কোটেশন। সেখানেই তিনি নির্দশনা দিয়েছেন। প্রতিটি লাইন ব্যাখ্যা করা যায়। ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিটি লাইন একেকটা নির্দেশনা। এ ভাষণ কোনো কাগজ না, কোনো নোট না, কোনো কিছুই না। মনের ভেতর থেকে যা এসেছিল সেই বক্তৃতায় সেদিন তাই বলেছিলেন তিনি। ভাষণ দেয়ার আগে অনেকেই অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু, জাতির পিতা জানতেন কিভাবে কোন পদক্ষেপ নিতে হবে। ভাষণ দিতে যাওয়ার আগে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন আমার মা। যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে আমার মা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। আমার মা বলেছিলেন, তুমি সারা জীবন মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছ। তোমার মনে যে কথা আসবে তুমি সেকথাই বলবে। ভাষণটা দেখলে বুঝবেন তিনি কিন্তু তার মনের কথাই বলেছেন। একটা দেশকে স্বাধীন করা ও একটি জাতি সৃষ্টি করা, পৃথিবীর খুব কম রাজনৈতিক নেতাই তা করতে পেরেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু ভাষণে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সবাইকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশে একটি গেরিলা যুদ্ধে হবে। সেখানে কার কী দায়িত্ব সে কথাও তিনি বলে দিয়েছিলেন। তখন ৩২ নম্বর থেকে যে নির্দেশ আসত সে অনুযায়ী দেশ চলত। এমনকি ইয়াহিয়া খান যখন ঢাকায় আসেন তখন বাঙালি বাবুর্চিরা কাজ করবে না বলে জানিয়ে দিল। তখন ৩২ নম্বরে ফোন আসে আপনারা যতক্ষণ পর্যন্ত না বলবেন ততক্ষণ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট খাবার পাচ্ছেন না।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারতেন, কিন্তু জনসম্মুখে তা বলতেন না। বঙ্গবন্ধু আগেই জানতেন নির্বাচন হবে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জিতবে, কিন্তু পাকিস্তানিরা ক্ষমতা দেবে না। যুদ্ধ করেই দেশ স্বাধীন করতে হবে। এটা জেনেই বঙ্গবন্ধু লন্ডনে বসে যুদ্ধ হলে অস্ত্র কোথা থেকে আসবে, প্রশিক্ষণ কে দেবে, কারা কারা বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে, কোথায় শরণার্থীরা আশ্রয় নেবে- গেরিলা যুদ্ধের সব পরিকল্পনা করে রেখে গিয়েছিলেন। তখন আমি লন্ডনেই ছিলাম, সেসব ঘটনার আমি একজন চাক্ষুস সাক্ষী। পরে ৭ মার্চের ভাষণে তিনি সব ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন। বক্তৃতা শেষে তিনি একথাও বলেছিলেন তার ওপর আস্থা আছে কিনা। জনগণও জানিয়েছিল আস্থা আছে। মানুষ তাদের কথা রেখেছিল। বঙ্গবন্ধু যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন জনগণ তা আক্ষরিকভাবে পালন করেছে।

১৯৭৫ পরবর্তী জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া সব আমলেই জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ থাকার কথা উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া সবাই ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে বাধা দিয়েছে। কিন্তু সত্যকে কোনোদিন মুছে ফেলা যায় না। সত্য আজ উদ্ভাসিত হয়েছে। তিনি বলেন, এ বাংলাদেশে এমন একটা সময় ছিল আমাদের বাংলা ভাষা দাবি আদায়ের যে আন্দোলন সেখানে যে তার অবদান ছিল সেটা মুছে ফেলা হয়েছিল। একেবারে অস্বীকার করেছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তি সংগ্রামে যে তার অবদান সেটাও মুছে ফেলা হয়েছিল। এমন ভাবে বিকৃত ইতিহাস তৈরি করা হল যে কোনো এক মেজর এক বাঁশির ফুঁ দিল আর অমনি যুদ্ধ হয়ে গেল, দেশ স্বাধীন হয়ে গেল। অথচ তিনি নিজেই ৪শ’ টাকা বেতনে চাকরি করতেন সরকারের অধীনে। তাকেই ঘোষক বানানোর চেষ্টা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, আসলে সত্যকে কখনও কেউ মুছে ফেলতে পারে না। আর জাতির পিতা তো তার ৭ মার্চের ভাষণে বলেই গেছেন যে ৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আসলে কোনো কিছুই দাবায়ে রাখা যায় না। সত্য উদ্ভাসিত হবেই। সত্য ঠিকই আসবে। আজকে সে সত্যটা মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের স্বীকৃতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ৭ মার্চের ভাষণ, যে ভাষণ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিল। এখন তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিলে স্থান করে নিয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণ আড়াই হাজার বছরের যত ভাষণ যত সামরিক-অসামরিক নেতারা দিয়েছেন তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ যে ভাষণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছে স্বাধীনতার চেতনায়। এভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এ ভাষণ ।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা এ ভাষণ মুছে ফেলতে চেয়েছিল, নিষিদ্ধ করে রেখেছিল আমি জানি না তারা লজ্জা পায় কিনা। অবশ্য তাদের লাজ আছে বলেও মনে হয় না। কারণ যদি নির্লজ্জই না হবে তবে ওই ভাষণ বা তার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা কেউ করে, করে না। যে ভাষণ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে আজকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সে ভাষণ স্বীকৃতি পেয়ে গেছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী শিমুল মোস্তাফিজ। এর আগে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।