ডেক্সরিপোর্ট ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, এ সঙ্কটময় সময়ে আমাদের সহনশীল এবং সংবেদনশীল হতে হবে। কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরের সঙ্গে সরবরাহ চেইন অটুট রয়েছে। অযৌক্তিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করবেন না। জনগণের দুর্ভোগ বাড়াবেন না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবস এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদযাপিত হচ্ছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত।
তিনি বলেন, ধনী বা দরিদ্র, উন্নত বা উন্নয়নশীল, ছোট বা বড়- সব দেশই আজ কমবেশি নভেল করোনা নামক এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশও এ সংক্রমণ থেকে মুক্ত নয়।
সৌদি আরবের জেষ্ঠ্য আলেমদের পরামর্শে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মক্কায় মসজিদুল হারাম ও মদিনায় মসজিদে নববীসহ সৌদি আরবের সব মসজিদে জামায়াতে নামাজ আদায় বন্ধ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে সরকারিভাবে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর একটি হাদিস অনুযায়ী, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজানে ‘হাইয়া আলা আল-সালাহ’ (যার অর্থ নামাজ পড়তে আসুন) এর পরিবর্তে ‘আল-সালাতু ফি বয়ুতিকুম’ (যার অর্থ বাড়িতে/যেখানে আছেন সেখানে থেকেই নামাজ পড়ুন) বলা হচ্ছে।
জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ঘরে ইবাদত করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুসলমান ভাইয়েরা ঘরেই নামাজ আদায় করুন এবং অন্যান্য ধর্মের ভাইবোনদেরও ঘরে বসে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপদেশ আমাদের মেনে চলতে হবে। আমাদের যতদূর সম্ভব মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।’
‘করমর্দন বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন। যতদূর সম্ভব ঘরে থাকবেন। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। বাইরে জরুরি কাজ সেরে বাড়িতে থাকুন।’
ঘরে ইবাদাত করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুসলমান ভাইয়েরা ঘরেই নামাজ আদায় করুন এবং অন্যান্য ধর্মের ভাই-বোনদেরও ঘরে বসে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সারাবিশ্বে মহামারী রূপ নেওয়া কভিড-১৯ রোগে ইতোমধ্যে বিশ্বে ১৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশেও সংক্রমণ ঘটেছে প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের, মারা গেছেন পাঁচজন, আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ জন।