আব্দুল্লাহ আল হাসিব,বিশেষ প্রতিবেদক দেশের দুর্যোগ কালীন সময়ে ত্রানের ১৮৪ বস্তা চাল চুরির ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,নানা অপকর্মের হোতা নূরে আলম বেপারী।
ত্রাণ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগে বহিস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সঙ্কটের সময় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাৎ, জাটকা নিধনে বিরত থাকা জেলেদের জন্য সরকার থেকে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল আত্মসাৎ ও কালোবাজারে বিক্রি, সরকারি ত্রাণের চাল ভুয়া মাস্টাররোলে বিতরণ দেখিয়ে আত্মসাৎ, সরকারি ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত চাল নির্ধারিত পরিমাণে প্রদান না করা ও বিধিবহির্ভূতভাবে অন্যদের মাঝে বিতরণ ইত্যাদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখিত চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ মূলক কার্যক্রম জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হযল। একই সময় পৃথক পৃথক কারণ দর্শানো নোটিশে কেন তাদেরকে চূড়ান্তভাবে পদ থেকে অপসারণ করা হবে না তার জবাব পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ইতিপূর্বে ত্রাণ বিতরণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেন এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়।

জানাগেছে,গত ১৬ এপ্রিল রাতে র্যাব-৮ সদস্যরা বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে । এসময় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ওজনে কম দেয়ার সময় দুই ইউপি সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেন তারা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুজিত হাওলাদার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের দু’জনকে এক মাস করে বিনাশ্রম করাদন্ড দেন।
কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম আত্মগোপনে চলে যান। এরপর নিজেকে রক্ষায় ব্যাপক তদবির শুরু করেন। তার সাজা না হওয়ায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। চাল চুরির অপবাদ নিয়ে তাকে বরখাস্ত হতেই হল।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে,‘অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারী স্থানীয় আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থেকে নানা অপকর্ম করে বেড়ান। জমি দখল, নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও অবৈধ ইটভাটা পরিচালনাসহ নানা অপকর্মের অনুঘটক নূরে আলম বেপারী।
এদিকে,একাধিক অপকর্মের হোতা চাল চোর নূরে আলম সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় স্বস্তির নি:শ্বাস ছেড়েছেন এলাকাবাসী।দেশের চলমান পরিস্থিতিতে লকডাউন থাকায় আনন্দ মিছিল বের করতে না পারলেও সরকার যথা সময়ে উপযুক্ত ব্যাবস্থা নেয়ায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন তারা।