ডেক্সরিপোর্ট ঔষধ প্রশাসনের পরামর্শে প্রানঘাতি মহামারি করোনাভাইরাস শনাক্তে নিজেদের উদ্ভাবিত কিটের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল স্থগিত করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
সোমবার (২৫ মে) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জিআর কোভিড-১৯ র্যাপিড ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়কারী মুহিব উল্লাহ খন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মুহিব উল্লাহ খন্দকার বলেন, আমরা মঙ্গলবার (২৬ মে) থেকে আমাদের তৈরি কিটের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করতে চেয়েছিলাম। এই ট্রায়ালের জন্য ধানমন্ডির নগর হাসপাতালে ৫০টা থেকে ১০০টা স্যাম্পল গ্রহণ করার কথা ছিল। ঔষধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের অনুরোধ করা হয়েছে, আমরা যেন এখন এই ট্রায়াল না করি। আমরা তাদের প্রতি সন্মান জানিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল স্থগিত করেছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) থেকে আমরা আমাদের কিটের প্রপোজালের একটা অনুমোদন নিয়েছিলাম। আমাদের কিটের আপডেটের জন্য এটা হচ্ছে ইন্টারনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। এর আগেও আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করেছি, সেটা ঔষধ প্রশাসনে জমাও দিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, ১৭ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের পরীক্ষার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় কিট উৎপাদনের কথা জানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৯ মার্চ কিট উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন, ড. ফিরোজ আহমেদ এই কিট তৈরি করেন।
২৫ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের কাছে করোনা টেস্টের কিট হস্তান্তর করা হয়।
বেশ কিছু দিন কিট পরীক্ষা নিয়ে বিতর্কের পর ৩০ এপ্রিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের থেকে বিএসএমএমইউ বা আইসিডিডিআর,বিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়।
এরপর ২ মে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহীনা তাবাসসুমকে প্রধান করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।