ডেক্সরিপোর্ট পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা হলো দেশে বনায়ন করে সবুজ বেষ্টনীতে পরিবর্তন করা। বাংলাদেশের ২৫ ভাগ এলাকা বনায়ন এবং সবুজ বেষ্টনীতে পরিবর্তন করা।পরিবেশগত পরিবর্তন মোকাবেলা করার জন্য বনায়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। অতীতের তুলনায় এখন প্রচুর পরিমানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
১০ বছর আগে যেমন তাপ ছিল, তার চেয়ে এখন কয়েকগুণ বেড়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখতে বনায়ন খুবই জরুরি। প্রধানমন্ত্রী ১৬ জুলাই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে পুরো বাংলাদেশে ১ কোটি বৃক্ষ রোপন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় অধীনে পাণি উন্নন বোর্ড ১০ লক্ষ বৃক্ষরোপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সেই বৃক্ষরোপনের জন্য আজ আমরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। আমরা ২ হাজার ৫ শত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে বিভিন্ন স্থানে ফলজ, ঔষধীসহ বিভিন্ন ধরণের গাছ লাগাবো।
বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিন চরআইচা গ্রামে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১ টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওয়তায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ যাতে একটি সবুজ বেষ্টনীতে পরিণতো হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ২৫ ভাগ এলাকাকে বনায়নের লক্ষে পৌছাতে পারি সেজন্য বৃক্ষরোপন করতে হবে।
করোনা ভাইরাস নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যে গতিতে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো করোনা ভাইরাসের জন্য তা কিছুটা ব্যহত হয়েছে। কিন্তু আমরা থেমে নেই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে, কিছুটা থমকে গেলেও আমরা ঘুরে দাড়িয়েছি।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে অনেক প্রাণহানি হয়েছে, সেদিক হিসেব করলে আমাদের দেশে অনেক কম হয়েছে। তবে সেটা মনে করলে চলবে না যে আমাদের প্রাণহানি কম হয়েছে, আর ভবিষ্যতে হতে পারে না। এটা যে কোন সময় মহামারি রুপ নিতে পারে।
স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আমি এখানে বসে দেখছি আপনারা অনেকেই মাস্ক নিয়ে আসেননি। কিন্তু অনুরোধ করি আপনারা যে বয়সেরই হন না কেন মাস্ক ব্যবহার করুন। এতে একজন থেকে অন্যজন সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা কমবে, গতকালও বরিশালে ২৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, আপনাদের সাবধান থাকতে হবে, যদি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন আর ২০৪১ সালের ভেতরে উন্নয়নশীল দেশে আমরা পৌছাতে চাই আমাদের সু-স্বাস্থ্যেরও অধিকারী হতে পারে। করোনা ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে হবে, আরো সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

নদী ভাঙ্গন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ভাটির দেশের লোক, এখানকার মাটি খুব নরম। উজানের দেশ চায়না, নেপাল, ভারতে যে বৃষ্টি হয়, সেই বৃষ্টির পানি আমাদের ভাটির দেশ হয়ে বঙ্গোপসাগরে যায়। এই পানি আসবেই, বন্ধ করতে পারবো না। আর পানির সাথে সেসব দেশ থেকে প্রচুর পলিমাটি প্রতি সিজনে আমাদের দেশে আসে। নদী ভরাট হয়ে যায়। আজ ড্রেজিং করলাম ৬ মাস পরে আবার নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ড্রেজিংটা ব্যয়বহুল ব্যবস্থাপনা তারপরও ড্রেজিং করে যাচ্ছি। আমরা বড় বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছি, পরিকল্পনাও অনেক রয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো দেশের মানুষ যাতে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পায়।
বাধ ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাধ নির্মান করি তা ভেঙ্গে যাচ্ছে, এজন্য আমরা সমীক্ষা করাচ্ছি যাতে বাধ না ভেঙ্গে যায় তাতে কি করা যায়। আমরা নদী শাসন করার চেষ্টা করছি। আর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নদী শাসন করে তাতে রেগুলার ড্রেজিং করতে হবে।
তিনি বলেন, সাধারণ ১ কিলোমিটার বাধে দেড়কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, আর সেখানে ব্লক দিয়ে যদি স্থায়ী তীর রক্ষা করি তাহলে ছোট নদীতে ৩০ কোটি এবং বড় নদীতে ৩০ থেকে ৫০ কোটির মধ্যে খরচ হয়। এটা অনেক ব্যয়বহুল, তেমনি ড্রেজিংও ব্যয়বহুল। তবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আগের থেকে অনেক সমৃদ্ধশালী, যারজন্য আমরা এখন ব্যয় করতে পারি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ৩ হাজার কিলোমিটার তীর ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে রক্ষা করেছি। তারপরও অনেক জায়গায় দেখবেন ব্লক বসানোর পরও ভেঙ্গে পরছে। এর কারণ জলবায়ুর পরিবর্তনের কারনে অনেক সময় পানির প্রবাহ অনেক বেশি বেগে আসছে। আবার অনেক সময় দেখা যায় পানি একজায়গাতে ঘুরপাক খাচ্ছে, স্পয়েলিং হয়ে ধ্বস নামে। যদিও তারপর পরীক্ষা করে দেখছি আমরা এবং পরীক্ষায় যদি দেখা য়ায় গর্ত আছে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে ব্লক ফেলে তা বন্ধ করি। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছি। আমরা আমাদের লক্ষে পৌচাতে পারবো।
দক্ষিাণাঞ্চল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়েল অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডে মহাপরিচালক এ, এম, আমিনুল হক, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তর মোঃ খাইরুল আলম এবং বরিশাল সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মধু উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্থ সুইচগেট ও রাস্তাসহ নগরীর বেলতলা খেয়াঘাটের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।