রবিবার, ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ৮:৩১
শিরোনাম :
কেডিসিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পাশে জিয়াউদ্দিন সিকদার শ্রমিকের অধিকার উপেক্ষা করে কোনো ব্যবস্থা নয়: এড.আতিকুর রহমান গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিলেন ১০ নেতাকর্মী! চ্যানেল আই’র ২৮ বছরে বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের শুভেচ্ছা এক কনস্টেবলে অতিষ্ঠ শেবাচিম হাসপাতাল ঢাকায় আরও দুটি মেট্রোরেল হবে,সাড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন রূপাতলীতে শ্রমিকনেতা কাওছার হোসেনের নেতৃত্বে চাঁদামুক্ত পরিবেশে স্বস্তিতে আলফা-সিএনজি চালকরা! বরিশালে বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ বিএম কলেজে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত বরিশালে ল্যাবএইডের উদ্যোগে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত

পটুয়াখালীর সোনার চরে পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা

* বুড়াগৌরাঙ্গ নদের মোহনায় বঙ্গোপসাগরে সোনার চর দ্বীপ 
* সোনার চর দ্বীপটির মোট আয়তন ১০ বর্গকিলোমিটার 
* পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় 
* চরে নানান ধরনের বৃক্ষ, পাখি ও প্রাণীর সমাগম 
* সুযোগ–সুবিধা না থাকায় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠছে না

অনলাইন ডেক্সঃ চার কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত। সাজানো–গোছানো বনভূমি। দ্বীপের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা খাল। আছে পাখি, বন্য প্রাণী। আর চারপাশে নিরিবিলি পরিবেশ। এখানকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য সবার চোখ জুড়িয়ে দেবে।

পটুয়াখালীর সমুদ্রতটের সোনার চর ছবির মতো সুন্দর। কিন্তু অবকাঠামো আর যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় সেখানে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠছে না।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে ৪০ কিলোমিটার পূর্বে বুড়াগৌরাঙ্গ নদের মোহনায় বঙ্গোপসাগরে সোনার চর দ্বীপটির অবস্থান। সোনার চর পূর্ব-পশ্চিমে ৪ কিলোমিটার এবং উত্তর দক্ষিণ আড়াই কিলোমিটার। মোট আয়তন ১০ বর্গকিলোমিটার।

পটুয়াখালী থেকে লঞ্চ অথবা বাসে গলাচিপা। সেখান থেকে লঞ্চে করে চর মোন্তাজ। তারপর ট্রলারে করে সোনার চরে যাওয়া যায়। গলাচিপা থেকে সকাল সাতটায় এবং বেলা দেড়টায় চর মোন্তাজের উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা। এ ছাড়া গলাচিপা ও গলাচিপার পানপট্টি থেকে ট্রলার যাচ্ছে চর মোন্তাজে। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে করে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় সোনার চরে পৌঁছানো যায়।

বুড়াগৌরাঙ্গ নদের মোহনার একটু দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বুকে ষাটের দশকে জেগে ওঠে এই দ্বীপ। দ্বীপটি ধীরে ধীরে ফসল ফলানোর উপযোগী হয়। পটুয়াখালী এবং এর আশপাশে নদীভাঙনকবলিত মানুষজন এই চরে এসে আশ্রয় নেয়, ফসল ফলায়। পৌষ মাসে পুরো দ্বীপ সোনালি ধানের রঙে সোনা বরণ ধারণ করে। সেখান থেকে এর নাম হয় সোনার চর। এই চরের আশ্রিতদের ঝড়–জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করতে ১৯৬৫-১৯৬৬ সালে প্রথম বন বিভাগ এই চরে কেওড়া, সুন্দরী, গড়ান, হেতাল, গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করে বনায়ন শুরু করে।

সত্তরের প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ্বাস লন্ডভন্ড করে দেয় সোনার চরকে। এখানে আশ্রিত দেড় শতাধিক পরিবার ভেসে যায় ঝড়–জলোচ্ছ্বাসের প্রবল তোড়ে। গাছপালা যা ছিল, তা–ও দুমড়েমুচড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সোনার চর পরিণত হয় বিরান ভূমিতে। জলোচ্ছ্বাসের পর কয়েক বছরে সোনার চরে ঝোপ-জঙ্গল জন্মায়। ১৯৭৫ সালে পটুয়াখালী বন বিভাগ সোনার চরে আবার নতুন করে বনায়নের দায়িত্ব নেয়। তাঁরা দ্বীপের সাড়ে পাঁচ হাজার একর জমিতে কেওড়া, সুন্দরী, খুলসি, কড়ই ইত্যাদি গাছের চারা রোপণ করে। এ ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ এখানে আপনা-আপনি জন্মায়। এসব উদ্ভিদ সোনার চরকে পরিণত করে এক অপরূপ বনভূমিতে।

নিভৃত সোনার চরে শুধু নানান ধরনের বৃক্ষের সমাহারই নয়, এখানে রয়েছে প্রাণীর সমাগম। শিয়াল, মহিষ, বন্য শুয়োর, বানর এ বনের বাসিন্দা। ১৯৯৫ সালের পর সোনার চরে দুই দফায় নয়টি হরিণ ছাড়া হয়। এখন তাদের সংখ্যা কী পরিমাণ, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান জানা না গেলেও বনে অনেক হরিণের দেখা মেলে। সৈকতে চোখে পড়বে লাল কাঁকড়ার বিচরণ। দেখা মিলবে হরেক রকম পাখিরও। শীতের মৌসুমে অতিথি পাখির আগমন ঘটে এই দ্বীপে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, সোনার চরকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১১ সালে সোনার চরকে বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকো ট্যুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সোনার চরে পর্যটকদের ওঠানামার জন্য জেটি নির্মাণ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, হরিণ দেখার প্ল্যাটফর্ম, পিকনিক স্পট, পায়ে হাঁটা পথ নির্মাণ, পর্যবেক্ষণকেন্দ্র, বন্য প্রাণীর সুপেয় পানির জন্য পুকুর খনন, ছাউনি নির্মাণ, কাঠের সেতু, কর্মচারীদের ব্যারাক হাউস, বসার ব্যবস্থার জন্য বেঞ্চ ইত্যাদি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা করা হয়নি।

পরে ২০১৪ সালে সোনার চরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জরুরি ভিত্তিতে দুটি হেলিপ্যাড, বিশ্রামাগার, অফিস ভবন, টয়লেট, ইট বিছানো সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে সেগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মাহবুব রব্বানী দৈনিক সকাল সংবাদ’কে বলেন, সোনার চর একটি আদর্শ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তবে এ জন্য যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার। তাহলে পর্যটকদের যাতায়াত বাড়বে এবং আরও পরিচিতি পাবে সোনার চর।

রাজধানী শহর ঢাকা থেকে সরাসরি লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে পর্যটকেরা সহজেই সোনার চরে আসতে পারবেন। কুয়াকাটা থেকে সি-ট্রাক অথবা অন্য কোনো উন্নত জলযানের ব্যবস্থা করা গেলে খুব সহজে এবং কম সময়ে সোনার চরে পৌঁছানো সম্ভব। এ ছাড়া গলাচিপা থেকে সোনার চর পর্যন্ত লঞ্চের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পর্যটকদের আবাসনের জন্য দ্বীপে অবকাশকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে সোনার চরে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে।

পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম দৈনিক সকাল সংবাদ’কে বলেন, বর্তমানে সোনার চরে একটি বিট অফিস রয়েছে। সেখানে একজন বিট কর্মকর্তা ও ছয়জন বন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। পর্যটকদের কাছে সোনার চর আকর্ষণীয় করতে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।