রবিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, রাত ৩:১৫
শিরোনাম :
বরিশালে ফিরোজ ও এনায়েতের নেতৃত্বে ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি বাঁধনের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএম কলেজে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ বিএম কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন কলেজে আলোচনা সভা সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড.মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর!

কলেজছাত্রীর পেটের ভেতরে ব্যান্ডেজ, দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

ডেক্সরিপোর্ট  কুমিল্লার বরুড়ায় পেটের ভেতরে ব্যান্ডেজ এবং গজ রেখেই নাফসি জাহান নামে এক কলেজছাত্রীর অপারেশন সম্পন্ন করেন দুই চিকিৎসক। জেলার বরুড়া উপজেলা সদরের ফেয়ার হসপিটালে এ ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ওই হসপিটালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার চার মাস পর রোববার বিকালে ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রীর ভাই তানজিদ সাফি অন্তর বাদী হয়ে কুমিল্লার আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।

নাফসি জাহান (২২) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার বিবরণ এবং ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ এপ্রিল রাতে পেটের ব্যথা নিয়ে জেলার বরুড়া পৌর এলাকার কাশেম শফিউল্লা কাজলের মেয়ে নাফসি জাহান বরুড়া উপজেলা সদরে ফেয়ার নামে বেসরকারি একটি হসপিটালে ভর্তি হন। এ সময় ওই ছাত্রীর অ্যাপেন্ডিসের ব্যথা বলে অনুমান করেন চিকিৎসকরা। পরে ১৩ এপ্রিল ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের তত্ত্বাবধানে ডা. মো. রাশেদ-উজ-জামান রাজিব নাফসির অপারেশন করেন। অপারেশনের পর ছাত্রীর পেটে ব্যান্ডেজ এবং গজ রেখেই চিকিৎসক সেলাই সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অপারেশনের পরপরই ওই ছাত্রী পেটে আবারও তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। ব্যথা কমাতে ডা. ইকবাল ব্যথানাশক এবং এন্টিবায়োটিক ওষুধ লিখে দেন। এভাবে প্রায় ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও রোগীর পেটের ব্যথা কমেনি। পরে রোগীর ভাই তানজিদ সাফি অন্তর তার বোনকে আলট্রাসনোগ্রাফি করান। এতে তার পেটে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করা যায়।

পরে ১৮ জুলাই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. আজিজ উল্লাহ ও ডা. মাহমুদ রোগীকে পুনরায় অপারেশন করান। এ সময় ছাত্রীর পেট থেকে গজ এবং পুঁজ বের করা হয়।

তানজিদ সাফি অন্তর অভিযোগ করে বলেন, ডা. ইকবাল ও রাজিব আমার বোনের সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়াই অপারেশন করেন, পরে পেটে ব্যান্ডেজ এবং গজ রেখেই সেলাই করেন। আবার ব্যথা হলে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এন্টিবায়োটিক প্রেসস্ক্রাইব করেন। ৩ মাস এমন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ওষুধে আমার বোনের অবস্থা আরও খারাপ হয়। আমি এ ঘটনায় জড়িত দুই চিকিৎসকের সঠিক বিচার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আদালত মামলাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লার পিবিআইকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

এ বিষয়ে ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান, অপারেশনের দিন তিনি ছিলেন না, রোগী যেদিন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি গেছেন সেদিনও তিনি হাসপাতালে ছিলেন না। তবে তিনি রোগীকে ওষুধ দিয়েছেন।

কীভাবে রোগীর অবস্থা না বুঝে ওষুধ দিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. ইকবাল জানান, ওই সময় রোগীর মাসিকের সময় ছিল। আমি মাসিক হবে মনে করে ওষুধ দিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে অপারেশনকারী ডাক্তার রাশেদ উজ-জামান রাজিব বলেন, আমি যথাযথভাবেই চিকিৎসা করেছি। এছাড়া অপারেশনে কোনো প্রকার সমস্যা হলে আগেই অবহিত করার দরকার ছিল। ঘটনার চার মাস পর এমন অভিযোগ করা ঠিক নয়। তারপরেও আমি বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে দেখব।