বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং, সকাল ১০:৩৬
শিরোনাম :
সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ স্নাতক পর্যন্ত নারীশিক্ষা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী সরকারি টাকায় গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর বন্ধ বিটিএমএ’র কমিটি গঠন :সভাপতি হুমায়ুন,সম্পাদক শাহিন, অর্থ সম্পাদক: মামুন বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মামুন-অর-রশিদ : সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক নিবেদিত যাত্রা স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উত্ত্যক্ত করায় ৪ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আটক বরিশালের নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিআইডব্লিউটিএ এখনো সক্রিয়

পল্লী নিবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এরশাদ

ডেক্সরিপোর্ট:রংপুরে নিজ বাসভবন পল্লী নিবাসের লিচুতলায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদ। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ছয়টায় রাষ্ট্রীয় সম্মানে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের দাফন সম্পন্ন হয়।এর আগে কবরের পাশে তার মরদেহে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অনার প্রদান করা হয়।

গত রোববার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরশাদের মৃত্যু হয়। এরপর জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা এরশাদের কবর ঢাকার সামরিক কবরস্থানে দেওয়ার কথা জানান। তবে ওই দিন থেকেই রংপুরের জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা এরশাদকে তাঁর নিজ শহর রংপুরে সমাহিত করার দাবি করেন। রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান শুরু থেকেই এরশাদের দাফন রংপুরের করার বিষয়ে দাবি তুলতে থাকেন।

গত রোববার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রথম জানাজা হয়। গতকাল সোমবার এরশাদের দ্বিতীয় জানাজা হয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।

এরপর বাদ আসর বায়তুল মোকররম জাতীয় মসজিদে তৃতীয় দফায় জানাজা হয়। আজ রংপুরে জানাজা শেষে ঢাকায় এরশাদের মরদেহ এনে দাফনের কথা ছিল।

কিন্তু মঙ্গলবার জানাজার আগে বক্তৃতায় মেয়র মোস্তাফিজার রংপুরে এরশাদের দাফনের দাবি আবারও তোলেন। এরপর জি এম কাদের বক্তব্য শুরু করেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের মাঝেই দাফনের বিষয়টি উল্লেখ করে স্লোগান শুরু হয়। বেলা ২টা ২৫ মিনিটে এরশাদের জানাজা শুরু হয়। জানাজার পর শত শত কর্মী এরশাদের মরদেহ বহনকারী গাড়িটি ঘিরে ধরেন। তাঁরা রংপুরে কবর দেওয়ার দাবি জানান। গাড়িটিতে ছিলেন মেয়র মোস্তাফিজার। ময়দানে মাইক থেকে তাঁর প্রতি আহ্বান জানানো হয়, মরদেহ যেন রংপুর থেকে ঢাকায় না যায়।

এ পরিস্থিতিতে বেলা তিনটার দিকে এরশাদের মরদেহ শহরে তাঁর বাড়ি পল্লী নিবাসে নেওয়া হয়। এরপর সেখানেই দাফন করার ঘোষণা দেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘এরশাদকে রংপুরে দাফন করার ব্যাপারে ঢাকায় যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাঁরা সম্মতি দিয়েছেন বলে আমি এ সিদ্ধান্তের কথা জানালাম।’

মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এরশাদের প্রতি রংপুরের গণমানুষের আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতাবোধকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এরশাদকে রংপুরেই দাফন করতে অনুমতি দিয়েছেন রওশন এরশাদ। এরশাদের কবরের পাশে তাঁর জন্য কবরের জায়গা রাখতেও অনুরোধ জানিয়েছেন রওশন।

রওশন এরশাদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি রংপুরের গণমানুষের ভালোবাসা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাদের আবেগ ও অনুরাগেই রংপুরে এরশাদকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার  দাফনকার্য পরিচালনা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। দাফনের সময় এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদেরসহ পরিবারের অন্য সদস্য, আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, দলীয় সংসদ সদস্য এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা। জাতীয় পার্টি ছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাসদের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।