বৃহস্পতিবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং, রাত ১:৫৬
শিরোনাম :
বরিশালে বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ বিএম কলেজে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত বরিশালে ল্যাবএইডের উদ্যোগে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফেল করানো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী হাসপাতালে সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুর পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা উন্নয়নে পরিবর্তনের প্রত্যয়,জাগুয়া ইউনিয়নবাসীর আস্থার প্রতীক কামরুজ্জামান সালেহ! সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার জাসদ কার্যালয় থেকে আটক হওয়া ২৫৪ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ জীবন থেকে ১৭ বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে: পানিসম্পদমন্ত্রী

বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে ছায়ার হাওড়ে

ডেস্করিপোর্ট  সুনামগঞ্জের শাল্লায় অস্বাভাবিকভাবে নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে ছায়ার হাওড়ে। রোববার সকাল ৬টার দিকে শাল্লা উপজেলার ৮১নং পিআইসি মাউতির বাঁধ ভেঙে হাওড়ে পানি ঢুকতে থাকে।

নিমিষেই চোখের সামনে তলিয়ে গেছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। এ হাওড়ে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার চার হাজার ৬৩৭ হেক্টরসহ দিরাই উপজেলা কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার বোরো জমিও রয়েছে।

বৃহত্তর ভাটি বাংলার হাওরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ হাওড় এটি। হাওড়াঞ্চলের চার জেলার সীমানা এসেছে এই ছায়ার হাওড়ে। হাওড়ের পূর্বপাড়ে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী, পশ্চিমপাড়ে সুনামগঞ্জের শাল্লা, উত্তরপাড়ে একই জেলার দিরাই এবং দক্ষিণ দিকে হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা। মিশেছে কুশিয়ারা হয়ে ভৈরবের কাছে মেঘনায়।

ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ রায় নান্টু বলেন, এই হাওড়ে সবচেয়ে বেশি জমি শাল্লা উপজেলার। কিছু জমি কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন ও কিছু জমি নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষকদের। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে। বাকি অর্ধেক ধান কাটা বাকি আছে। এ অবস্থায় হাওড় তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী জানান, রোববার ভোরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পিআইসি নির্মিত বাঁধটিতে ফাটল দেখা দেয়। পরে বাঁধ ভেঙে হাওড়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। বাঁধভাঙার এ দৃশ্য দেখে হাজারও কৃষক তাদের অবশিষ্ট জমির ধান কাটতে হাওড়ে নামেন।

কৃষকরা জানান, অকৃষক কৃপেন্দ্র দাসকে সভাপতি করে ২২ লাখ টাকার এই প্রকল্প দেওয়া হয়। পিআইসি সভাপতি কৃপেন্দ্র সিলেটে অবস্থান করেন। তিনি কৃষকও নন। তাই বাঁধের কাজে নানা দুর্বলতা ছিল। এ দুর্বলতার কারণেই বাঁধ ভেঙে হাওড়ের কাটার বাকি অবশিষ্ট জমির ধান তলিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তারা।

হাওড়ের কৃষকরা বলছেন, দেরিতে কাজ হওয়ায় বাঁধের মাটি ঠিক হয়নি। নিয়ম মোতাবেক বাঁধে দুরমুজ না করায় পানির ধাক্কা নিতে পারেনি বাঁধ। তাই সহজেই ভেঙে গেছে। সব মিলিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ, তাদের পিআইসি এবং প্রশাসনের গাফিলতিকেই হাওড় ডোবার জন্য দায়ী করলেন ছায়ার হাওড়ের কৃষকরা।

তবে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব দাবি করেন, হাওড়ের ৯০ শতাংশ ফসল কাটা শেষ। শনিবার রাত ১১টায় কালবৈশাখী হচ্ছিল। ওই সময় তদারকিতে কেউ না থাকায় বাঁধ ভেঙেছে।