ডেস্করিপোর্ট পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এদের মধ্যে ঈশ্বরদীর ১২ জন কৃষককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।কৃষকদের দাবি, তারা ঋণ পরিশোধ করার পরও তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের ঋণের মামলায় ঈশ্বরদীর এই ১২ জন প্রান্তিক কৃষককে জেলে পাঠানো হয়েছে। মাত্র ২৫-৩০ হাজার ঋণের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে ব্যাংকের দায়েরকৃত মামলায় এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এদের মধ্যে ঈশ্বরদীর ১২ জন কৃষককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।কৃষকদের দাবি, তারা ঋণ পরিশোধ করার পরও তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের ঋণের মামলায় ঈশ্বরদীর এই ১২ জন প্রান্তিক কৃষককে জেলে পাঠানো হয়েছে। মাত্র ২৫-৩০ হাজার ঋণের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে ব্যাংকের দায়েরকৃত মামলায় এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এবং শুক্রবার অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকালে প্রান্তিক কৃষকদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানা পুলিশ কৃষক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক নামীয় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে প্রান্তিক কৃষরা ঋণ নিয়েছিলেন।
কৃষকদের স্বজনরা জানান, ঋণের টাকা পরিশোধের পরও তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। পাবনা জেলা শহরের এলএমবি মার্কেটে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের জেলা কার্যালয়। শুক্রবার ওই কার্যালয় বন্ধ ছিল।
গ্রেফতার ১২ কৃষকের মধ্যে রয়েছেন- ঈশ্বরদীর সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামের মনি মন্ডলের ছেলে মাহাতাব মন্ডল (৪৫), মৃত সোবহান মন্ডলের ছেলে আবদুল গণি মন্ডল (৫০), কামাল প্রামাণিকের ছেলে শামীম হোসেন (৪৫), মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে সামাদ প্রামাণিক (৪৩), মৃত সামির উদ্দিনের ছেলে নূর বক্স (৪৫), রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আকরাম (৪৬), শুকুর প্রামাণিকের ছেলে আলম প্রামাণিক (৫০), লালু খাঁর ছেলে মোহাম্মদ রজব আলী (৪০), মৃত কোরবান আলীর ছেলে কিতাব আলী (৫০), হারেজ মিয়ার ছেলে হান্নান মিয়া (৪৩), মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ মজনু (৪০) ও মৃত আখের উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান (৫০)। গ্রেফতারকৃতরা সকলেই প্রান্তিক কৃষক বলে জানা গেছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষক বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক হতে ২৫-৩০ হাজার টাকা করে ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে ২০২১ সালে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়। আদালত এসব প্রান্তিক কৃষকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই প্রেক্ষিতে ঈশ্বরদী থানা–পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২ জন প্রান্তিক কৃষককে গ্রেফতার করে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি অরবিন্দ সরকার বলেন, ২০২১ সালে ওই ৩৭ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আদালত গত বুধবার এদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই ভিত্তিতে ১২ জনকে গ্রেফতার করে চালান দেওয়া হয়েছে।
ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কৃষকেরা দাবি করে বলেন, ঋণের টাকা তারা পরিশোধ করেছেন। এরপরও কেন মামলা হলো, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতির পাবনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে অনেকেই টাকা পরিশোধ না করে দিব্যি বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ প্রান্তিক কৃষকের মাত্র ২৫ হাজার টাকা ঋণের জন্য জেল ও জরিমানা করা হচ্ছে। অবিলম্বে এসব প্রান্তিক কৃষকদের বিনাশর্তে মুক্তির দাবি জানান তিনি।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষকলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমান মালিথা কৃষক গ্রেফতারের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কৃষক বান্ধব শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রান্তিক কৃষকদের সামান্য ঋণের কারণে গ্রেফতার সত্যিই খুবই দুঃখজনক।