শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, বিকাল ৪:৫১
শিরোনাম :
বিএম কলেজের অশ্বিনীকুমার হলে মধ্যরাতে উত্তেজনা,সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হামলার চেষ্টা বরিশালে হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ সম্পন্ন বরিশালকে নিরাপদ,পরিচ্ছন্ন ও সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে-এনসিপির মেয়রপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ নলছিটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সচেতনতায় তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত তারুণ্যের নলছিটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বরিশালে সাগরদী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে ফের হয়রানী, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! ২৮ অক্টোবর ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায়: অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: আইসিটি মন্ত্রী

সেই রাতে পরীমনি ক্লাবের ১৫ গ্লাস ৯ স্ট্রে ভাঙেন

ডেস্ক রিপোর্ট  বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর পরীমনির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছে গুলশানের একটি ক্লাব। ধর্ষণচেষ্টার দুদিন আগে মধ্যরাতে পরীমনি অল কমিউনিটি ক্লাবে গিয়ে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কেএম আলমগীর ইকবাল এই অভিযোগ করেছেন।

ক্লাবের প্রেসিডেন্ট বুধবার বলেন, পরীমনি সেই রাতে ১৫টি গ্লাস ভেঙেছেন, নয়টি স্ট্রে ছুড়ে মেরেছেন ও অনেক হাফপ্লেট ছুড়ে মেরে ভেঙেছেন। ঘটনার দিন পরীমনির সঙ্গে এক ভদ্রলোক ছিলেন, হাফপ্যান্ট পরা আরেক নারীও ছিলেন। এটা রাত প্রায় সোয়া ১টা বা দেড়টার ঘটনা।

এ বিষয়ে পুলিশের গুলশান বিভাগে উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ৭ জুন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ফোন পেয়ে পুলিশ অল কমিউিনিটি ক্লাবে গিয়েছিল। পুলিশ সেখানে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

সেই রাতের ঘটনার বর্ণনায় ক্লাব সভাপতি কেএম আলমগীর ইকবাল বলেন, ক্লাবের কিছু নিয়ম-কানুন আছে। কোনো ব্যক্তি যদি ক্লাবে আসেন তাকে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। কিন্তু পরীমনির সঙ্গে আসা ভদ্রলোক হাফপ্যান্ট ও স্যান্ডেল পরে এসেছেন। তখন ক্লাব থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন আমাদের ফুড অ্যান্ড বেভারেজের পরিচালক ও ক্লাবের এক ম্যানেজার। উনারা সেটা দেখে বলেছেন যে, আপনিতো ক্লাব রুলস ভায়োলেট করেছেন। আপনিতো হাফপ্যান্ট পরে এখানে আসতে পারেন না। তখন তারা ক্ষিপ্ত হয়ে যান। তাদের আচার-আচরণ গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় উনারা (ডিরেক্টর ও ম্যানেজার) বলেছেন, রাত অনেক হয়ে গেছে আপনারা চলে যান। কিন্তু তারা চলে যাচ্ছিল না বিধায় আমাদের দুই পরিচালকই ক্লাব থেকে চলে যান।

পরে ঘটনার বর্ণনায় ক্লাব প্রেসিডেন্ট বলেন, তারপর যেই সদস্যের মাধ্যমে উনারা এসেছিলেন উনিও তাদের চলে যাওয়ার জন্য অনেক অনুরোধ করেন। কিন্তু উনারা যাচ্ছিলেন না বিধায় ওই সদস্যও চলে যান। এরপর উনারা (পরীমনি ও সঙ্গীরা) অকস্মাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে যান, চেঁচামেচি শুরু করেন এবং গ্লাস, স্ট্রে ছুড়ে মারতে থাকেন। তখন আর কেউ ছিলেনও না ক্লাবে। দুজন ওয়েটার ছিলেন আর এ তিন-চারজন মানুষ ছিলেন। একপর্যায়ে তারা ট্রিপল নাইনে কল করেন। পুলিশ আসার পর তারা দেখতে পান, উনি ওগুলো ছুড়ে মারছেন। তখন পুলিশ তাদের জিজ্ঞেস করে আপনারা কেন এসেছেন, কেন আমাদের কল করেছেন? তখন তারা বলেন, আমাদের হেনস্তা করা হয়েছে। তখন পুলিশ ভাইয়েরা বলেন, কিছুতো দেখছি না। তারপর পুলিশ সদস্যরা ওয়াকিটকির মাধ্যমে উপরে (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা) জানতে চান আমরা কি করব। তখন উপর থেকে নির্দেশ আসে উনারা এমন করলে তাদের বের করে দিয়ে আপনারা চলে যান। ওয়াকিটকির সেই আওয়াজ সবাই শুনতে পাচ্ছিলেন। এরপর তারা কিছুটা ঠাণ্ডা হন ও পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। এরপর আর কিছু ঘটেনি। তিনি বলেন, আমরা উনাদের কাউকে চিনতামও না জানতামও না। পরে আমরা শুনেছি উনাদের একজনের নাম পরীমনি।

ক্লাব প্রেসিডেন্ট কেএম আলমগীর ইকবাল বলেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষ যেই সদস্যের মাধ্যমে এসেছিল তাকে শোকজ করেছে। তার বিরুদ্ধে ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এটা চলমান অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, যেই সদস্য ক্লাবের নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান তাকে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী তাকে শাস্তি প্রদান করি। তাকে শোকজ, শোকজ গৃহীত না হলে, ৩ মাস, ৬ মাস এবং সদস্যপদ স্থগিতও করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পরীমনিকে কল করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে গণমাধ্যমে তিনি এটিকে ‘ফালতু অভিযোগ’ বলে অভিহিত করেছেন।

৮ জুন পরীমনি ঢাকা বোট ক্লাবে গেলে সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় সোমবার ৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন এ চিত্রনায়িকা। মামলার পর পুলিশ প্রধান দুই আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।