স্পোর্টস ডেস্ক:উদ্বোধনীতে ৪৯ রান করার পর দুই বলের ব্যবধানে নেই সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই যজশপ্রীতি বুমরাহর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাকিব।
৪৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে তারা ১১০ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতে জোড়া ফিফটি গড়েন লিটন ও মুশফিক।
ওপেনিংয়ে নেমে শুরু থেকেই অসাধারণ ব্যাটিং করেন লিটন। ফিফটির পর সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন এ ওপেনার। কিন্তু যুজবেন্দ্র চাহালের লেগ স্পিনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন লিটন। তার আগে ৯০ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৭৩ রান করেন।
লিটন আউট হওয়ার পর উইকেটের পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই বিপদে পড়েন মোহাম্মদ মিঠুন। ঠিক পরের বলেই এলবিডব্লিউ হন এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। যুজবেন্দ্র চাহালের কারণে রানের খাতা খোলা হয়নি মিঠুনের।
এরপর ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কুলদীপ যাদবের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন রিয়াদ।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৩৭.৩ ওভারের খেলা শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান। ৭৫ রানে ব্যাট করছেন মুশফিক।
এর আগে লোকেশ রাহুুল আর মহেন্দ্র সিং ধোনির জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেটে ৩৫৯ রানের পাহাড়সমান সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত।
আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের কাছে নাকাল হয়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে আজ (মঙ্গলবার) কার্ডিফে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে শুরুতে বেশ দেখেশুনে খেলেছেন তারা। পাওয়ার প্লে’র প্রথম ১০ ওভারে ভারত তুলতে পারে ১ উইকেটে মাত্র ৩৪ রান।
কার্ডিফে রোদ বৃষ্টির লুকোচুরির দিনে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুই বল পেরোতেই বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ করে দিতে হয়।
তবে একটু বিরতি দিয়ে আবারও শুরু হয় ম্যাচ। আর নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসেই উইকেটের দেখা পান মোস্তাফিজুর রহমান। ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে (১) এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন কাটার মাস্টার।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে মাটি কামড়ে ব্যাটিং শুরু করেন বিরাট কোহলি আর রোহিত শর্মা। ১৪তম ওভারে এসে তাদের ৪৫ রানের জুটিটি ভাঙেন রুবেল হোসেন। টাইগার পেসারের দুর্দান্ত এক ডেলিভারি ব্যাটে লেগে স্ট্যাম্প ভেঙে দেয় রোহিতের। ভারতীয় ওপেনার তখন ১৯ রানে।
তারপর ৪৭ রানে কোহলি বোল্ড সাইফউদ্দিনের বলে। আর রুবেলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ২ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন বিজয় শঙ্কর। ১০২ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে তখন রীতিমত ধুঁকছে ভারত।
সেখান থেকে দলকে টেনে তুলেন রাহুল আর ধোনি। পঞ্চম উইকেটে এই যুগল গড়েন ১৬৪ রানের বড় জুটি। ৯৯ বলে ১২ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কায় ১০৮ রান করে রাহুল পার্টটাইম লেগস্পিনার সাব্বির রহমানের শিকার হন।
তবে অভিজ্ঞ ধোনিকে আটকে রাখা যায়নি। শেষ ওভারে এসে সাকিব আল হাসান বোল্ড করেন তাকে। ৭৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ৮ বাউন্ডারির সঙ্গে ৭টি ছক্কা হাঁকান ভারতকে দুইটি বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক।