শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২০ ইং, বিকাল ৪:০০

কৃষ্ণচূড়ায় সেজেছে বরিশাল বিএম কলেজ ক্যাম্পাস

আবদুল্লাহ আল হাসিব,বিশেষ প্রতিবেদক 

‘তুমি সেই কৃষ্ণচূড়া

যার আলাপন প্রকৃতির প্রতিটি

সূক্ষ্ম সরণির সাথে বহুযুগ ধরে।

তুমি সেই কৃষ্ণচূড়া…’

বসন্তের শেষে গ্রীষ্মের শুরুর দিকে আকাশকে আবীর রঙে রাঙিয়ে এ দেশের আকাশে ফুটে কৃষ্ণচূড়া আর বাতাসে ভাসে তার পাপড়ি। গ্রীষ্মের দাবদাহে পিপাসার্ত ক্লান্ত পথিক অনিন্দ্য সৌন্দর্যের আধার ডালপালা ছড়ানো আগুন রাঙা কৃষ্ণচূড়ার গাছের নিচে থমকে দাঁড়ায়, ভুলে যায় পিপাসা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় গাছগুলোতে আগুন লেগেছে।

নয়নাভিরাম কৃষ্ণচূড়ার রাঙা ফুলের মায়ায় জড়িয়েছে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের বিদ্যাপিঠ বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ। এ যেন কৃষ্ণচূড়ার ক্যাম্পাস। গ্রীষ্মের শুরুতেই পুরো ক্যাম্পাস যেন কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙে রেঙেছে। সূর্যের সবটুকু উত্তাপ যেন কেড়ে নিয়েছে টুকটুকে লাল এই কৃষ্ণচূড়া।

কলেজের প্রধান ফটকের পাশে ডালপালা ছড়ানো কৃষ্ণচূড়া গাছটির শাখায় শাখায় রক্তবর্ণ ফুলের সমাহার।
এছাড়া কলেজের বিজ্ঞান ভবনের সামনে ছড়ানো রক্তিম আভায় প্রধান তোরণের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, পথচারী বা কলেজের সম্মুখের মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে যে কোনো যাত্রীরই হৃদয় কাড়ে নয়ন জুড়ানো কৃষ্ণচূড়া। মনের অজান্তেই মুখে অস্ফুটস্বরে বের হয়ে আসে ‘বাহ! কি মায়াবী জাল বিস্তার করেছে আকাশের পানে।’

কলেজের মূল ভবনের সামনে এবং জীবনানন্দ দাশ চত্বরে আগুন রাঙা ফুল প্রকৃতির সব রঙকে ম্লান করে দিয়েছে। সকালের দিকে ক্যাম্পাসের রাস্তাগুলো কৃষ্ণচূড়ার ঝরে পড়া রক্ত লাল পাপড়ি যেন পুষ্প শয্যা মনে হয়। আবার পুকুর পাড়ের গাছেও ফুটেছে রক্ত লাল কৃষ্ণচূড়া।

পুরো কলেজ ক্যাম্পাস যেন কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্যে শোভা পেয়েছে। কৃষ্ণচূড়ার ইংরেজি নাম ফ্লেম ট্রি। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো ‘ডেলোনিক্স রেজিয়া’। এটি ফ্যাবেসি পরিবারের অন্তর্গত একটি বৃক্ষ যা গুলমোহর নামেও পরিচিত। আমাদের দেশে লাল এবং হলুদ রঙের ফুল দেখা গেলেও সাদা রঙের কৃষ্ণচূড়ার দেখা কালেভদ্রে দেখা যায়।

কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় ১২-১৪ মিটার হলেও শাখা-পল্লবে এটি বেশি অঞ্চলব্যাপী ছড়িয়ে পরে। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ। কৃষ্ণচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার প্রয়োজন হয়।

কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শির্ক্ষাথী রাকিবুল ইসলাম হৃদয় বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকতেই দেখা মিলে কৃষ্ণচূড়া ফুলের। করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় যেতে পারছি না ক্যাম্পাসে। ফেসবুকে ক্যাম্পাসসহ কৃষ্ণচূড়ার ফুলের ছবি দেখে মনটা আনচান করছে। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় কলেজের শিক্ষকসহ সকল বন্ধুদের মিছ করছি বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।

এই রুক্ষ গ্রীষ্মের রোদের খরতাপে মন মাতানো রঙিন এ সৌন্দর্যে চোখ ধাঁধানো মায়াময় টুকটুকে লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলে ফুলে যেমনি সেজেছে গ্রীষ্মের প্রকৃতি তেমনি সকলের মনেই জাগিয়েছে রক্তিম স্রোত।

ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার একটাই প্রত্যাশা কৃষ্ণচূড়ার এই অপরূপ দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যটি অমর হয়ে বেঁচে থাকুক এই বিএম কলেজে যুগের পর যুগ। আপন মায়ার চাদর আকাশে ছড়িয়ে মেলে ধরুক স্বপ্নময় নয়নাভিরাম কৃষ্ণচূড়ার নান্দনিক সৌন্দর্য। বেঁচে থাক বিএম কলেজ তার বুকে রক্তিম কৃষ্ণচূড়া ধারণ করে।