শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, সকাল ৭:০৯
শিরোনাম :
শেরেবাংলা সম্মাননা পেলেন কথা সাহিত্যিক মামুন-অর-রশিদ বিএম কলেজের অশ্বিনীকুমার হলে মধ্যরাতে উত্তেজনা,সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হামলার চেষ্টা বরিশালে হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ সম্পন্ন বরিশালকে নিরাপদ,পরিচ্ছন্ন ও সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে-এনসিপির মেয়রপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ নলছিটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সচেতনতায় তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত তারুণ্যের নলছিটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বরিশালে সাগরদী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে ফের হয়রানী, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! ২৮ অক্টোবর ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায়: অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্দির-মসজিদ পাশাপাশি, শত বছরেও নেই বিরোধ

ডেস্করিপোর্ট  কয়েকশ বছর পুরোনো ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদ এবং পাশেই শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারীর সমাধি ও মন্দির রয়েছে সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ইউসুফগঞ্জ গ্রামে একই সীমানায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে নামাজ আদায় করেন এবং একই সীমানায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা-আরতি করেন। কিন্তু শত বছরেও এখানে কোনো কিছু নিয়ে বিরোধ হয়নি।

কথিত আছে, ইশা খাঁর আমলে বিভিন্ন দেশ থেকে বাণিজ্য করতে সোনারগাঁয়ে আসতেন মুসাফিররা। তত্কালীন সময়ে ইউসুফ সওদাগরের জাহাজ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়লে তিনি আল্লাহপাকের কাছে ফরিয়াদ করেন যে, হে মহান সৃষ্টিকর্তা তুমি আমার এই জাহাজ যেখানে ভিড়িয়ে দিবে, আমি সেখানেই একটি মসজিদ তৈরি করে দিব। এক পর্যায়ে তার জাহাজটি সোনারগাঁওয়ের মোগরাপাড়া মাঝিবাড়ি এলাকায় এসে থামে। তাই ইউসুফ সওদাগরের নাম অনুযায়ী মসজিদের নামকরণ করা হয় ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদ। পাশাপাশি তত্কালীন মসজিদ সংলগ্ন একই সীমানায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী সমাধিস্থলে একটি আশ্রম তৈরি করে সেখানে পূজা করত। সেই সময় থেকে যে যার মতো করে ধর্ম পালন করে আসছে। এই দুই ধর্মের মধ্যে এখনো পর্যন্ত এই স্থানে কোনো বিরোধ বা হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়নি।

ব্রহ্মচারী সমাধিস্থল ও মন্দিরের সেবিকা সবিতা রানী দাস জানান, তত্কালীন ঢাকা জেলার রায়পুরা থানার রায়পুরা গ্রামের ডা. জগবন্ধু দাস ৩ ভাদ্র, ২২৮৩ বঙ্গাব্দ তারিখে এই আশ্রমটি পুনর্নির্মাণ করেন। আমার শ্বশুরের আমল থেকে শুরু করে আমরা এই সমাধিস্থলের সেবা-যত্ন করে আসছি। বিগত ৫০ বছরেও পূজা পালন নিয়ে আমরা মুসলমান ভাইদের কাছ থেকে কোনো কটূ কথা শুনিনি। নামাজের সময় হলে আমরা পূজার সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখি এবং নামাজ শেষ হলেই পুনরায় পূজার কার্যক্রম শুরু করি। মসজিদে যাতে মুসলমান ভাইদের নামাজের সমস্যা না হয়, সেদিকে আমরা সব সময় লক্ষ্য রাখি।