বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ৪:৫৭
শিরোনাম :
বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ নলছিটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সচেতনতায় তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত তারুণ্যের নলছিটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বরিশালে সাগরদী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে ফের হয়রানী, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! ২৮ অক্টোবর ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায়: অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: আইসিটি মন্ত্রী সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ ও ডিজিটাল সচেতনতায় নলছিটিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত বরিশালে সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর :কনস্যুলেটের দুর্বলতা ছিল কিনা,জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজ-এ চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য!

এজি লাভলু, কুড়িগ্রামপ প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজে নিয়মিত ক্লাসে পাঠদান অচল রেখে বাড়তি আয়ের ধান্দায় অতিরিক্ত ক্লাসের নামে সকাল-দুপুর দুই বেলা শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করানো হচ্ছে। এতে জড়িত রয়েছেন, উক্ত কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ইসমাইল হোসেন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবিব ঝিনুক, কৃষি শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক মোঃ নজরুল ইসলাম সহ অনেকে।

শিক্ষকের অপ্রতুলতা, ক্লাসে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, দীর্ঘ কাল যাবৎ অধ্যক্ষ পদ শূণ্য থাকা সহ নানাবিধ কারণে ঐতিহ্যবাহী এই কলেজটিতে দীর্ঘ দিন ধরে সঠিকভাবে ক্লাস না হওয়ার অভিযোগ অনেক পুরোনো । অভিযোগ রয়েছে, দুপুরের আগেই কলেজটি শিক্ষার্থী শূণ্য হয়ে পড়ে।

এমতাবস্থায়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে ফিরিয়ে আনার কোন কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ না করে অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন বাবদ একশত টাকা এবং প্রতিমাসে আটশত টাকা করে ধার্য্য করা হয়েছে। যারা অতিরিক্ত ক্লাসের অন্তভূর্ক্ত থাকবে তাদেরকে পূর্ণ প্রাকটিক্যাল নম্বরসহ সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দয়ছেন অতিরিক্ত ক্লাস পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূরুঙ্গামারী সরকারী কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, যারা কোচিং ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে না তাদের তালিকা করা হচ্ছে। ফাইনাল পরীক্ষায় তাদের দেখে নেয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিয়মিত ক্লাসে কোচিং এ না আসা শিক্ষার্থীদের নানাভাবে অপমান অপদস্ত করায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী কলেজে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। যেসকল শিক্ষার্থী কোচিং ক্লাসে অংসগ্রহণ কওে তারা নিয়মিত ক্লাসে আসার প্রয়োজন মনে করে না।

এ বিষয়ে কোচিং এ অংশ নেয়া দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, কলেজের নিয়মিত ক্লাস করার পরে আবারও বেলা ২:০০ টা থেকে ৫:০০ পর্যন্ত কোচিং করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। যেহেতু কলেজের নিয়মিত ক্লাসগুলো তেমন একটা হয় না সেহেতু তারা কলেজের নিয়মিত ক্লাস না করে একবারে বেলা ২:০০ টায় অতিরক্তি ক্লাসে উপস্থিত হয়। আবার যারা সকালে কোচিং করে তাদের অধিকাংশই সকালে না খেয়ে কোচিং এ আসে। ফলে, সকাল ১০:০০ টা থেকে শুরু হওয়া নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারে না তারা। এমতাবস্থায়, কলেজের নিয়মিত ক্লাসগুলো কার্যতঃ অচল হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, এই কোচিং বাণিজ্যে উক্ত কলেজের কতিপয় শিক্ষকসহ সোনাহাট ডিগ্রি কলেজ ও ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের কয়েকজন শিক্ষকও সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। তারা হলেন, ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের মোঃ মতিয়ার রহমান, প্রভাষক পদার্থ, মোঃ ফুয়াদ হাসান, প্রভাষক রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দেবেন্দ্র নাথ, প্রভাষক বাংলা, সোনাহাট ডিগ্রি কলেজের মোঃ আলেফ উদ্দিন, প্রভাষক আইসিটি ও মোঃ আইনুল হক, প্রভাষক ইংরেজি, মইদাম মহাবিদ্যালয়ের মোঃ জাহিদুল ইসলাম, প্রভাষক সমাজ বিজ্ঞান। এছাড়াও কিছু অশিক্ষকও এই কোচিং এর সাথে জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আজাদ রহমান নামের একজন অভিভাবক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ক্লাসের কারনে কলেজের নিয়মিত ক্লাসগুলো ব্যাহত হলে অতিরিক্ত ক্লাস করার কোন প্রয়োজন মনে করছি না। এ ব্যাপারে তিনি অধ্যক্ষের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাগফুরুল হাসান আব্বাসী ফোনে জানান, কোচিং বাণিজ্য বা অতিরক্তি ক্লাসের বিষয়ে আমি অবগত নই। তদন্ত করে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।